বিএলও-দের চাপ কমাল কমিশন! অ্যাপের সমস্যা সত্ত্বেও ৯৯.৯৩% ফর্ম বিতরণ সম্পন্ন, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে উদ্যোগ

দেশের গণতান্ত্রিক ভিত্তি আরও মজবুত করার লক্ষ্যে নির্বাচন কমিশন অফ ইন্ডিয়া (ইসিআই) ভোটার তালিকা সংশোধনের প্রক্রিয়ায় এক গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে। বাংলায় স্পেশাল ইনটেনসিভ রিভিশন (এসআইআর) ২০২৫-এর দ্বিতীয় পর্যায়ে এনুমারেশন ফর্ম (ইএফ) জমা দেওয়ার সময়সীমা ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। এই সিদ্ধান্ত নেওয়ার পিছনে কমিশনের লক্ষ্য হলো—যাতে কোনো বৈধ ভোটার বাদ না পড়েন এবং সবাই তাদের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করতে পারেন।

সময়সীমা বৃদ্ধির কারণ:

এসআইআর ২০২৫-এর এই দ্বিতীয় পর্যায় ৪ নভেম্বর থেকে শুরু হয়েছিল এবং আগের পরিকল্পনায় ফর্ম জমার শেষ তারিখ ছিল ২৮ নভেম্বর।

কিন্তু কমিশনের সাম্প্রতিক পর্যালোচনায় দেখা গেছে, কিছু এলাকায় ফর্ম বিতরণ এবং ডিজিটাইজেশনের কাজে বিলম্ব হচ্ছে।

ফলে, ৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত সময় বাড়ানো হয়েছে যাতে সব ভোটার অবাধে ফর্ম জমা দিতে পারেন এবং তালিকার স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা যায়।

অগ্রগতির চিত্র:

এই অভিযানটি প্রায় ৫১ কোটি ভোটারকে প্রভাবিত করছে এবং ১২টি রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলে চলছে। স্থানীয় বুথ লেভেল অফিসাররা (বিএলও) ঘরে ঘরে ফর্ম বিতরণ করছেন।

এখন পর্যন্ত ৯৯.৯৩% ফর্ম বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে (৫০.৬৩ কোটি ফর্ম বিতরণ করা হয়েছে)। গোয়া এবং লক্ষদ্বীপে ১০০% বিতরণ সম্পন্ন হয়েছে।

এখন পর্যন্ত ৬৮.৪০% ফর্ম ডিজিটালাইজড হয়েছে (৩৪.৮৬ কোটি ফর্ম)।

কমিশন জানিয়েছে, কিছু অ্যাপের গ্লিচের কারণে চ্যালেঞ্জ থাকা সত্ত্বেও ৪ ডিসেম্বরের মধ্যে সবকিছু সম্পন্ন হবে।

এসআইআর-এর মূল উদ্দেশ্য ও বিশেষ বৈশিষ্ট্য:

এসআইআর-এর মূল উদ্দেশ্য হলো ভোটার তালিকা থেকে মৃত ব্যক্তি, দ্বিগুণ নাম এবং অযোগ্য ভোটারদের নাম বাদ দেওয়া, এবং নতুন ভোটার যোগ করা।

প্রি-প্রিন্টেড ফর্ম: বিএলওরা ঘরে এসে প্রি-প্রিন্টেড ফর্ম দিচ্ছেন, যাতে ভোটারের নাম, ছবি ও অন্যান্য বিবরণ আগে থেকে লেখা থাকে। ভোটারদের শুধু স্বাক্ষর করে তা জমা দিতে হবে।

পরিচয় যাচাই: নতুন ফর্মে একটি বিশেষ অংশ যোগ করা হয়েছে—২০০২-২০০৫ সালের পুরনো তালিকায় নিজের বা অভিভাবকের নাম খুঁজে বের করা, যা পরিচয় যাচাইয়ে সাহায্য করবে।

আধার কার্ড: কোনো ডকুমেন্ট জমা দিতে হবে না, শুধু আধার কার্ড পরিচয় যাচাইয়ের জন্য ব্যবহার হতে পারে।

খসড়া ও চূড়ান্ত তালিকা:

৯ ডিসেম্বর খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে।

ফর্ম না পেলে, খসড়া তালিকা প্রকাশের পর ফর্ম ৬ (নতুন ভোটারদের জন্য) জমা দিয়ে আবেদন করা যাবে। স্থানীয় রিটার্নিং অফিসারের (ইআরও) সামনে শুনানির পর নাম যোগ হবে।

চূড়ান্ত ভোটার তালিকা ৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৬-এ প্রকাশিত হবে।

ভোটাররা ইসিআই-এর নেট অ্যাপ বা ১৯৫০ হেল্পলাইনে সাহায্য নিতে পারেন।