অসমে বহুবিবাহ নিষিদ্ধ! UCC কার্যকরের বড় ঘোষণা করে রাজ্যের রাজনীতিতে শোরগোল ফেললেন হিমন্ত শর্মা

অসম বিধানসভা গত ২৭ নভেম্বর এক ঐতিহাসিক সিদ্ধান্তের সাক্ষী থাকল। এই দিন পাস হলো বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ আইন, যা রাজ্যে বহুবিবাহকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসেবে ঘোষণা করল। আইন অমান্য করলে সর্বোচ্চ ১০ বছরের কারাদণ্ড হতে পারে। তবে এই বিল পাসের চেয়েও বড় রাজনৈতিক ঘোষণাটি করলেন মুখ্যমন্ত্রী হিমন্ত বিশ্ব শর্মা, যা গোটা রাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনকে নতুন করে আলোড়িত করেছে—২০২৬ সালের নির্বাচনের পরই অসমে ইউনিফর্ম সিভিল কোড (UCC) বাস্তবায়নের ঘোষণা।
মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট জানিয়েছেন, “আগামী বছরের বিধানসভা নির্বাচনের পর যদি আমি আবার মুখ্যমন্ত্রী হই, তবে নতুন সরকারের প্রথম অধিবেশনেই UCC বিল পেশ করা হবে এবং বিলম্ব ছাড়াই তা কার্যকর করা হবে।” তাঁর মতে, বহুবিবাহ নিষিদ্ধকরণ বিলটি আসলে UCC-এর পথে প্রথম বড় পদক্ষেপ।
আইন থেকে বাদ কারা? নতুন আইনটি থেকে তফসিলি উপজাতি (ST) সম্প্রদায় এবং ষষ্ঠ তফসিলভুক্ত স্বশাসিত অঞ্চলগুলিকে বাদ রাখা হয়েছে। সরকারের যুক্তি, এই অঞ্চলগুলিতে স্বতন্ত্র সাংবিধানিক বিধান কার্যকর থাকায় সেখানে এই আইন প্রযোজ্য হবে না। মুখ্যমন্ত্রী অবশ্য দাবি করেছেন, “এই আইন কোনও ধর্মবিশেষকে লক্ষ্য করে নয়। বহুবিবাহ শুধু একটি সম্প্রদায়ের সমস্যা নয়। হিন্দু, মুসলিম, খ্রিস্টান সব সমাজের মধ্যেই এর উপস্থিতি রয়েছে। তাই বিলটি সর্বজনীন।”
‘প্রতারণামূলক বিবাহ’ (Deceptive Marriage) রুখতেও নতুন বিল! বিধানসভায় হিমন্ত শর্মা আরও এক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন। তিনি জানান, ফেব্রুয়ারি মাসের শেষ হওয়ার আগেই ‘Deceptive Marriage’ বা প্রতারণামূলক বিবাহ রোধে একটি আলাদা বিল আনা হবে। বহু ক্ষেত্রে ভুয়ো পরিচয় বা প্রতারণার মাধ্যমে সম্পর্ক গড়ে তোলার অভিযোগ পাওয়ায় সরকার এই অপরাধ কঠোরভাবে মোকাবিলা করতে চায়। সরকারের দাবি, এই বিলটি মূলত ভুয়ো পরিচয়, ধর্ম লুকিয়ে বিয়ে করা, বা প্রতারণামূলক সম্পর্ক স্থাপনের বিরুদ্ধে আইনি কাঠামো তৈরি করবে।
যদিও মুখ্যমন্ত্রী সর্বসম্মতির আশা করেছিলেন, এআইইউডিএফ এবং সিপিএমের মতো বিরোধী দলগুলো কিছু সংশোধনী প্রস্তাব এনেছিল, যা ভয়েস ভোটে পরাজিত হয়। রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন, এই আইন পাস এবং UCC-এর ঘোষণা—দুটিই অসমে বিজেপির সামাজিক রূপান্তরের রাজনীতিকে আরও মজবুত করবে এবং এটি মহিলাদের অধিকার সুরক্ষার দিকে এক বড় পদক্ষেপ।