TTP থেকে ডুরান্ড লাইন! বারাদারের কড়া মন্তব্যের জেরে আফগান-পাক সম্পর্কে নতুন মোড়, বাড়তে পারে সীমান্ত সংঘাত

আফগানিস্তান-পাকিস্তান সীমান্তে যখন উত্তেজনা আবার তুঙ্গে, ঠিক সেই সময়ই তালিবান সরকারের অন্যতম শীর্ষ নেতা এবং উপ-প্রধানমন্ত্রী (অর্থনৈতিক বিষয়) মোল্লা আবদুল গনি বারাদার এক তীব্র ও সরাসরি হুঁশিয়ারি দিলেন। কমান্ডো বাহিনীর সমাবর্তন অনুষ্ঠানে বক্তৃতা দিতে গিয়ে বারাদার স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা কাউকে আমাদের ভূখণ্ড লঙ্ঘন করতে দেব না।”

যদিও তিনি সরাসরি পাকিস্তানের নাম নেননি, কিন্তু তাঁর বক্তব্যের ভাষা এবং সাম্প্রতিক ঘটনাপ্রবাহ পরিষ্কার করে দিচ্ছে এই বার্তা মূলত পাকিস্তান সেনা ও ইস্টাব্লিশমেন্টের উদ্দেশেই দেওয়া হয়েছে।

বারাদারের কড়া বার্তা ও সামরিক প্রস্তুতি:

বারাদারের মন্তব্যের আগের কয়েক সপ্তাহে পাকিস্তান একাধিকবার আফগান আকাশসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগ উঠেছে। তালিবানের অভিযোগ, পাকিস্তান সেনা ও বিমানবাহিনী সীমান্তবর্তী এলাকায় ড্রোন নজরদারি, বিমান উড়ান এবং গোলাবর্ষণের মতো উস্কানিমূলক কৌশল চালাচ্ছে।

বারাদারের বক্তব্য ছিল কঠোর ও দৃঢ়:

“শত্রুরা আমাদের ভূমি ও সার্বভৌমত্বের দিকে খারাপ নজরে তাকাবেন না। আফগানদের ধৈর্য আর পরীক্ষা করবেন না। আমরা অন্য দেশের সঙ্গে পারস্পরিক সম্পর্ক বজায় রাখতে আগ্রহী, কিন্তু আগ্রাসন হলে জবাব দেওয়া হবে।”

এই বার্তাটি কেবল রাজনৈতিক বক্তব্য নয়, এটি তালিবানের সামরিক প্রস্তুতির একটি প্রকাশ্য ঘোষণা হিসেবে দেখা হচ্ছে। তিনি নবস্নাতক কমান্ডো বাহিনীর সামনে বক্তৃতা দেন, যাদের তিনি সরাসরি বলেন, “আপনারা দেশের ঢাল, আপনাদের দায়িত্ব সীমান্ত রক্ষা।”

উত্তেজনা বাড়ার কারণ:

গত দুই মাসে পাকিস্তান আফগানিস্তানের কুড়ান, খোস্ত, নানগরহার, পাকতিকা ও কান্ধার প্রদেশের উপরে একাধিকবার ড্রোন ও যুদ্ধবিমান পাঠিয়েছে বলে আফগান কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে।

তালিবান সরকারের অভিযোগ, পাকিস্তানের ড্রোন আফগান আকাশে ঢুকে নজরদারি চালিয়েছে এবং পাকিস্তানি সেনা সীমান্ত বরাবর গোলাবর্ষণ ও রকেটও ছুঁড়েছে।

তালিবান সরকার এই ঘটনাগুলিকে “সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন” হিসেবে দেখছে।

অন্যদিকে, পাকিস্তান বলছে যে আফগানিস্তান থেকে পাকিস্তানে প্রবেশ করা TTP (তেহরিক-ই-তালিবান পাকিস্তান) জঙ্গিরা হামলা চালাচ্ছে, তাই সীমান্তে নজরদারি বাড়ানো হয়েছে। তবে তালিবান বারবার দাবি করেছে, “পাকিস্তানের সমস্যা পাকিস্তানের অভ্যন্তরীণ সমস্যা। এর দায় আমাদের ওপর চাপানো যাবে না।”

তালিবানের অবস্থানে পরিবর্তন:

২০২১ সালে ক্ষমতায় আসার পর তালিবান সরকার তুলনামূলকভাবে নরম কূটনৈতিক অবস্থানে ছিল। কিন্তু পাকিস্তানের ধারাবাহিক সীমান্ত আগ্রাসন ও প্রতিরক্ষামন্ত্রী খোয়াজা আসিফের মন্তব্যের (যেখানে তিনি আফগানদের ‘শত্রু’ বলেছিলেন) পর এখন তালিবানের অবস্থান বদলাতে শুরু করেছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, তালিবান তাদের অভ্যন্তরীণ সমর্থন ধরে রাখতে এবং তাদের মর্যাদা রক্ষা করতে কড়া অবস্থান নিতে বাধ্য হয়েছে। বারাদারের বক্তব্য তাই কেবল পাকিস্তানের জন্য একটি সতর্কবার্তা নয়, বরং সমগ্র অঞ্চলের জন্য একটি সংকেত— আফগানিস্তান আর আগের মতো নরম অবস্থানে থাকবে না। সীমান্ত লঙ্ঘন হলে এবার প্রতিক্রিয়া আসবে।