বাথরুমে কি সঙ্গে নিয়ে যান মোবাইল? গবেষকদের এই চাঞ্চল্যকর রিপোর্ট পড়লে আজই ছাড়বেন এই মারাত্মক অভ্যাস!

মোবাইল ফোন নিয়ে বাথরুমে যাওয়ার বদ-অভ্যাস রয়েছে? ঘণ্টার পর ঘণ্টা টয়লেট সিটে হাতে ফোন নিয়ে বসে থাকেন? তাহলে কিন্তু আপনার গুরুতর শরীর খারাপ হওয়ার আশঙ্কা! সাম্প্রতিক একাধিক বড় মাপের সমীক্ষায় শৌচাগারে মোবাইল নিয়ে যেতে সম্পূর্ণ বারণ করা হচ্ছে। কারণ, বাথরুমের জল ও কমোডের ফ্লাশ থেকে মোবাইলের স্ক্রিনে ও গায়ে এমন সব মারাত্মক ব্যাকটেরিয়া এসে আটকে যাচ্ছে, যা মানবদেহের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকারক। ওইসব ব্যাকটেরিয়া পেট খারাপ, জ্বর, চামড়ার রোগ, ইনফেকশন এমনকি প্রাণহানিরও কারণ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন গবেষকরা।
আধুনিক সময়ে মোবাইল ফোন আমাদের ব্যক্তিগত সময়কেও গ্রাস করছে! মোবাইল এখন আর শুধু কথা বলার কাজে লাগে না; দিনের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমরা নানা কাজে ফোনটিকে কাছ ছাড়া করি না। খাওয়ার সময়, ঘুমানোর সময়—সবসময় ফোন আমাদের আশেপাশে থাকে। এমনকী অনেকে তো এখন বাথরুমেও ফোন নিয়ে যান। এই প্রবণতা দিন দিন মারাত্মক আকার ধারণ করছে।
ভারত, ব্রিটেন, আমেরিকা সহ ২৪টি দেশের প্রাপ্তবয়স্ক মোবাইল ফোন ব্যবহারকারীদের নিয়ে করা এক বৃহৎ সমীক্ষায় উঠে এসেছে এমনই কিছু চোখ কপালে তোলার মতো তথ্য।
বাথরুমে ফোন নিয়ে যাওয়া কতটা ক্ষতিকর?
৫৭% প্রাপ্তবয়স্ক বাথরুমে ফোন নিয়ে যান।
কমোডের ফ্লাশ করলে সেখান থেকে কয়েক কোটি ব্যাকটেরিয়া ও নোংরা ড্রপলেট বাতাসে ছড়ায়।
মাত্র ৮ সেকেন্ডের ফ্লাশে প্রায় ৫ ফুট দূর পর্যন্ত অদৃশ্য নোংরা ও কণা উড়ে বেড়ায়।
দরজার নব, মেঝে, বেসিন ও আপনার হাতের ফোনের গায়ে এসে আটকে যায় ওই সব ‘সুপার-বাগ’ (Super Bug)।
ই-কোলি (E. coli) বা সালমোনেলার (Salmonella) মতো বিপজ্জনক সুপার বাগ পরবর্তীতে খাবারকে মারাত্মকভাবে দূষিত করতে পারে।
সেই দূষিত খাবার খেলে গ্যাস্ট্রিকের সমস্যা, তীব্র বদহজম ও পেটের মারাত্মক রোগ বাড়ে।
সমীক্ষায় দেখা গেছে, বাথরুম থেকে ফিরে মাত্র ৮% মানুষ তাঁদের মোবাইল ফোনটি পরিষ্কার বা স্যানিটাইজ করেন।
সংক্রমণের আসল রহস্য কোথায়?
ব্রিটেন ও অস্ট্রেলিয়ার গবেষকরা বলছেন, ফ্লাশের পরে হাত, মেঝে এবং বাথরুমের সর্বত্র ছোট ছোট কণা আকারে ব্যাকটেরিয়া ছড়িয়ে পড়ে। প্রাথমিক ভাবে শুধু জল দিয়ে হাত ধুলে সেই দূষিত পদার্থ দূর হয় না। তাই চিকিৎসকেরা বাথরুম থেকে বেরিয়ে সাবান দিয়ে ভালো করে হাত ধুতে বলেন।
কিন্তু হাত বা মেঝে সাবান দিয়ে ধুলেও বাথরুম থেকে বেরিয়ে এসে খুব কম মানুষই মোবাইল ফোনটি পরিষ্কার করেন। এক্ষেত্রে গবেষকরা অ্যান্টি-ফাঙ্গাল ও অ্যান্টি-ব্যাকটেরিয়াল টিস্যু দিয়ে মোবাইলটি মুছে ফেলার জোরালো পরামর্শ দিচ্ছেন।
বিশেষ করে অফিস, পাবলিক টয়লেট বা হাসপাতালের টয়লেটে এই সংক্রমণের আশঙ্কা প্রায় দশ গুণ বেশি। যাঁদের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা (Immune System) দুর্বল, তাঁরা এই ব্যাকটেরিয়ার কারণে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়তে পারেন। মাইক্রোকক্কি ও স্ট্যাফাইলোমোক্কি-র মতো ব্যাকটেরিয়া ত্বকে ইনফেকশন তৈরি করতে পারে, ফলে চর্মরোগের আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
করণীয় কী?
আধুনিক চিকিৎসকদের পরামর্শ, বাইরে থেকে বাড়িতে ফিরে যেভাবে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা উচিত, ঠিক একইভাবে নিজের স্মার্টফোনটিকেও মাঝে মাঝে অ্যান্টি-সেপটিক টিস্যু দিয়ে মুছে ব্যবহার করা দরকার। বিশেষ করে শিশুদের হাতে ভুলেও নোংরা ফোন দেবেন না, কারণ শিশুদের মধ্যে ব্যাকটেরিয়া বা জীবাণু থেকে ইনফেকশন হওয়ার ঝুঁকি সবচেয়ে বেশি থাকে।