SIR-এর টানা কাজের চাপেই কি প্রাণ গেল? হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মুর্শিদাবাদে আরও এক বিএলও শিক্ষকের মৃত্যু

ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন (SIR) প্রক্রিয়া চলাকালীন কাজের অতিরিক্ত চাপ নিয়ে আবারও প্রশ্ন উঠল। একটানা এই কাজের দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হলো মুর্শিদাবাদ জেলার খড়গ্রামের দিঘা প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক জাকির হোসেনের। তাঁর মৃত্যু ঘিরে সরগরম হয়ে উঠেছে গোটা এলাকা। অভিযোগ উঠেছে, নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার অতিরিক্ত কাজের চাপই কেড়ে নিল আরও এক শিক্ষকের প্রাণ।
পরিবারের অভিযোগ:
পরিবারের সদস্যদের দাবি, জাকির হোসেন গত কয়েকদিন ধরেই নিরন্তর মাঠ পর্যায়ে তালিকা সংশোধনের কাজে ব্যস্ত ছিলেন। স্কুলের কাজের পাশাপাশি এই বাড়তি দায়িত্ব সামলাতে গিয়ে তিনি মানসিক ও শারীরিকভাবে প্রবল চাপের মধ্যে ছিলেন। বৃহস্পতিবার সকালে হঠাৎই বুকে ব্যথা অনুভব করেন তিনি। দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও শেষরক্ষা হয়নি। চিকিৎসকরা জানান, হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে ওই শিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে।
রাজ্যে বাড়ছে অসুস্থতা ও মৃত্যুর সংখ্যা:
এই ঘটনা নিয়ে রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন কর্মরত বিএলও (BLO)-দের মধ্যে মোট মৃত্যুর সংখ্যা বেড়ে দাঁড়াল চার।
এর আগে বর্ধমানে এক মহিলা বিএলও-র মৃত্যু হয়েছিল ব্রেন স্ট্রোকে।
পরে মালবাজার ও নদীয়ায় দুজন বিএলও আত্মঘাতী হন। সেই সময়েও পরিবারের সদস্যরা কাজের চাপের কথাই উল্লেখ করেছিলেন।
মুর্শিদাবাদের এই ঘটনা ছাড়াও, রাজ্যে SIR প্রক্রিয়া চলাকালীন একাধিক বিএলও অসুস্থ হয়ে পড়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সম্প্রতি নামখানার ফ্রেজারগঞ্জের বিজয়বাটি এলাকার বাসিন্দা দেবাশিস দাস নামে এক বিএলও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। একইভাবে কিছুদিন আগে কোন্নগরের আরেকজন বিএলও-ও ব্রেন স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়েছিলেন।
মুখ্যমন্ত্রীর ক্ষতিপূরণ ঘোষণা:
কর্মরত বিএলও-দের মৃত্যু এবং অসুস্থতার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে আগেই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় একটি ঘোষণা করেছিলেন। তিনি জানিয়েছিলেন, কোনও বিএলও-র মৃত্যু হলে তাঁর পরিবারকে ২ লক্ষ টাকা করে দেওয়া হবে এবং অসুস্থ হলে ১ লক্ষ টাকা করে আর্থিক সাহায্য দেওয়া হবে। কিন্তু সেই ক্ষতিপূরণের ঘোষণা সত্ত্বেও কাজের অতিরিক্ত চাপ ও তার ফলে মৃত্যুর ঘটনায় আতঙ্ক বাড়ছে অন্যান্য বিএলও-দের মধ্যে।