‘আমাদের সন্তান বেঁচে আছে!’ ধোঁয়াশা কাটাতে মৃতদেহ সংরক্ষিত করল হাসপাতাল, ডিএনএ পরীক্ষার দাবিতে অনড় পরিবার

শিশু চুরির অভিযোগে উত্তাল হয়ে উঠেছে হুগলির আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল। কর্তৃপক্ষ নিজেরাই স্বীকার করে নিয়েছে যে, মৃত শিশুর দেহ ভুল পরিবারের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। কিন্তু কার সন্তান জীবিত, আর কার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে—এই ধোঁয়াশা কাটাতে অবশেষে প্রশাসন নড়েচড়ে বসেছে। TV9 বাংলার খবরের জেরে ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে কবর খুঁড়ে তোলা হলো মৃত শিশুর দেহ।
কবর খুঁড়ে দেহ উদ্ধার:
ম্যাজিস্ট্রেটের নির্দেশে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় পুলিশ মাটি খুঁড়ে মৃত শিশুর দেহটি উদ্ধার করে। আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসকসহ বিশাল পুলিশ বাহিনী আরামবাগের বড়ডোঙ্গলের বসন্তবাটি এলাকায় এই অভিযান চালায়। ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে দেহটি তুলে হাসপাতালে সংরক্ষিত করা হয়েছে।
ঠিক কী ঘটেছিল?
বুধবার এই চাঞ্চল্যকর অভিযোগ সামনে আসে। হুগলির তারকেশ্বরের বালিগোড়ির বাসিন্দা জাসমিনা বেগমকে প্রথমে হাসপাতাল জানায় যে তাঁর সদ্যজাত সন্তানের মৃত্যু হয়েছে। অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যায় আবার ফোন করে হাসপাতাল জানায় যে শিশুটি বেঁচে আছে। এতেই পরিবারের সন্দেহ বাড়ে।
পরে খোঁজ নিলে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ স্বীকার করে যে, জাসমিনার সন্তানের মৃত্যু হয়েছে কিন্তু সেই সন্তানের দেহ ভুল করে তুলে দেওয়া হয়েছে আরামবাগের বড়ডোঙ্গলের অন্য এক পরিবারের হাতে। বড়ডোঙ্গলের ওই পরিবার ততক্ষণে শিশুটিকে কবরও দিয়ে দিয়েছে।
হাসপাতালের দাবি: বড়ডোঙ্গলের যে পরিবারের হাতে ভুলবশত দেহ তুলে দেওয়া হয়, তাদের আসল সন্তানটি বেঁচে আছে এবং বর্তমানে হাসপাতালের এসএনসিইউ (SNCU) বিভাগে চিকিৎসাধীন।
জাসমিনার পরিবারের দাবি: তারকেশ্বরের বালিগোড়ির পরিবার মৃত সন্তানকে কোনোভাবেই নিজেদের বলে মেনে নিতে নারাজ। তাঁরা বলছেন, জীবিত শিশুকে এনে মিলিয়ে দেখার পরই তাঁরা বিশ্বাস করবেন। এই সংশয় কাটাতে তাঁরা ডিএনএ পরীক্ষারও দাবি জানিয়েছেন।
ভুলের কথা স্বীকার কর্তৃপক্ষের:
আরামবাগ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের অধ্যক্ষ ডা. রমাপ্রসাদ রায় ভুলের কথা স্বীকার করে নিয়েছেন। তিনি বলেন, “SNCU-তে বাচ্চাটি ভর্তি ছিল। তার মৃত্যু হয়েছিল। তার ওজন ছিল দেড় কেজি। যখন নাম ধরে বাড়ির লোককে ডাকা হয়েছিল, তখন একজন আসেন এবং তাঁকে আমরা মৃত বাচ্চাকে দিয়ে দিয়েছিলাম। কিন্তু তথ্যটা যাচাই করা হয়নি।”