নাম, ছবি ও কণ্ঠস্বর অপব্যবহারের বিরুদ্ধে বোম্বে হাইকোর্টের দ্বারস্থ শিল্পা শেট্টি, সুরক্ষার দাবি ‘পার্সোনালিটি রাইটস’-এর

বলিউড তারকাদের ব্যক্তিগত ও পাবলিসিটি অধিকার (Personality Rights) রক্ষার যে প্রবণতা গত কয়েক বছর ধরে বেড়েছে, সেই তালিকায় এবার যুক্ত হলেন অভিনেত্রী শিল্পা শেট্টি কুন্দ্রা। তাঁর নাম, ছবি, কণ্ঠস্বর বা পরিচিতি যাতে কেউ নিজের বাণিজ্যিক বা ব্যক্তিগত লাভের জন্য অননুমোদিতভাবে অপব্যবহার করতে না পারে, সেই সুরক্ষা চেয়ে তিনি বোম্বে হাইকোর্টে একটি মামলা দায়ের করেছেন।
শিল্পার অভিযোগ: ভুয়ো কনটেন্ট ও অপব্যবহার
শিল্পা শেট্টির আইনজীবীর দাবি, তাঁর পরিচয়ের অননুমোদিত বাণিজ্যিক ব্যবহার সরাসরি অভিনেত্রীর সুনাম ও মর্যাদার ওপর আঘাত।
অভিযুক্তের তালিকা: শিল্পার মামলায় সরাসরি ২৭ জন অভিযুক্তের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এদের মধ্যে রয়েছে একাধিক ওয়েবসাইট, যারা শিল্পার ছবি ও ভিডিও বেআইনিভাবে প্রচারমূলক কাজে ব্যবহার করেছে।
‘জন ডো’ ক্যাটাগরি: মামলার গুরুত্ব বাড়িয়ে শত শত অজ্ঞাত ব্যক্তি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মকে ‘জন ডো’ (John Doe) ক্যাটাগরিতে রাখা হয়েছে। এর অর্থ হলো, ভবিষ্যতে যারা এই ধরনের অপব্যবহার করবে, তারাও এই মামলার আওতায় আসবে।
আইনজীবীর বক্তব্য: শিল্পার হয়ে মামলা দায়ের করা আইনজীবী সানা রইস খান বলেন, “দশকের পর দশক পরিশ্রম করে শিল্পা শেট্টি নিজের পরিচিতি গড়ে তুলেছেন। তাঁর সম্মতি ছাড়া কোনো ব্যক্তি বা ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের আইনবহির্ভূত বাণিজ্যিক লাভের জন্য তাঁর সুনাম ব্যবহার করার অধিকার নেই।” তাঁরা অবিলম্বে এই ধরনের অপব্যবহার বন্ধ করার আবেদন জানিয়েছেন।
কী এই পার্সোনালিটি রাইটস?
আইনের চোখে একজন তারকার পার্সোনালিটি রাইটসের মধ্যে পড়ে তাঁদের নাম, কণ্ঠস্বর, স্বাক্ষর, ছবি অথবা এমন কোনও বৈশিষ্ট্য, যা সাধারণ মানুষ তাঁদের সঙ্গে সহজেই চিহ্নিত করতে পারে।
সংবিধান ও কপিরাইট: সাম্প্রতিক সময়ে এআই-জেনারেটেড কনটেন্ট এবং ডিপফেক টেকনোলজির মাধ্যমে তারকাদের পরিচয় অপব্যবহারের ঘটনা বাড়ছে। তাই অনেক তারকাই এই অধিকারকে সংবিধানের ২১ নম্বর অনুচ্ছেদের অধীনে থাকা গোপনীয়তার অধিকার এবং কপিরাইট আইন, ১৯৫৭-এর অধীনে থাকা নৈতিক অধিকার হিসেবে সুরক্ষা দেওয়ার দাবি তুলে ধরছেন।
এর আগে অমিতাভ বচ্চনের কণ্ঠ, অনিল কপূর, জ্যাকি শ্রফ, ঐশ্বর্যা রাই বচ্চন এবং রজনীকান্তের নাম পর্যন্ত হাইকোর্টের আইনি সুরক্ষা লাভ করেছে। শিল্পা শেট্টির এই মামলা ডিজিটাল যুগে সেলিব্রিটিদের পরিচয় রক্ষা ও অপব্যবহার বন্ধের ক্ষেত্রে আরও এক গুরুত্বপূর্ণ নজির তৈরি করবে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।