২০ মিটারও যায়নি গাড়ি, চোখের সামনে বন্ধুদের ডুবতে দেখল ৭ বছরের শিশু! উলুবেড়িয়া দুর্ঘটনার নেপথ্যে ভয়াবহ গাফিলতি?

সোমবার উলুবেড়িয়ার বহিরা গ্রামে মর্মান্তিক পথ দুর্ঘটনার সাক্ষী থাকল। স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পথে একটি পুলকার নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সোজা পুকুরে পড়ে যায়। এই ঘটনায় তিন স্কুলছাত্রের করুণ মৃত্যু হয়েছে এবং আরও দু’জন গুরুতর আহত।
স্থানীয় সূত্রে খবর, সোমবার দুপুর আনুমানিক সাড়ে ৩টে নাগাদ এই দুর্ঘটনা ঘটে। একটি স্থানীয় স্কুল থেকে ৫ জন পড়ুয়াকে নিয়ে ফিরছিল পুলকারটি। বহিরা গ্রামের কাছে আচমকাই চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেললে গাড়িটি পুকুরে গিয়ে পড়ে। খবর পেয়ে স্থানীয়রা ছুটে আসেন এবং উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন। পরে ঘটনাস্থলে পুলিশ ও ডুবুরি দল পৌঁছায়।
দুর্ঘটনার পর থমথমে বহিরা গ্রাম। পুকুর পাড়ে পড়ে রয়েছে শিশুদের ব্যাগ, জুতো। স্থানীয়রা জানান, দুর্ঘটনার ঠিক আগে এক ছাত্রকে গাড়ি থেকে নামিয়েছিলেন চালক। মাত্র ২০ মিটারও এগোয়নি পুলকারটি, তখনই আচমকা সেটি পুকুরের দিকে নেমে যায়। চোখের সামনে সেই ভয়াবহ দৃশ্য দেখে সাত বছরের সেই শিশুটি। বিপদে পড়া বন্ধুদের জন্য সে প্রাণপণে চিৎকার করতে থাকে। তার চিৎকারে ছুটে আসেন মা, মাসি, জ্যেঠিরা এবং গাড়ির চালকও সাহায্যের জন্য আওয়াজ দেন। প্রাথমিক উদ্ধারকাজ শুরু করেন স্থানীয়রাই।
এই মর্মান্তিক ঘটনায় আতঙ্কিত এবং ক্ষুব্ধ অভিভাবকেরা। তাঁরা পুলকারের গুণগত মান নিয়ে গুরুতর প্রশ্ন তুলেছেন। অভিভাবকদের অভিযোগ, মাত্র ১৫ হাজার টাকায় কেনা হয়েছিল গাড়িটি, যা পড়ুয়া পরিবহণের জন্য সম্পূর্ণ অনুপযুক্ত। তাঁদের আরও দাবি, নিয়মিত পুলকারটির বদলে গত ২-৩ দিন ধরে অন্য একটি গাড়ি ব্যবহার করা হচ্ছিল। স্কুল কর্তৃপক্ষই এই পুলকারের ব্যবস্থা করেছিল। এই ঘটনায় স্কুলের গাফিলতিকেই কাঠগড়ায় তুলছেন মৃত ও আহত পড়ুয়াদের অভিভাবকেরা।