‘বীরু’র বিদায়ে শোকার্ত ‘জয়’! “এই শূন্যতা চিরকাল শূন্য থাকবে,” বন্ধুর স্মৃতিতে আবেগঘন অমিতাভ!

বিনোদন জগতে এক যুগের অবসান। ৭৪-এর ‘দোস্ত’, ৭৫-এর ‘শোলে’র পর থেকে যে বন্ধুত্বের বাঁধন কেবল আরও দৃঢ় হয়েছিল, সেই সম্পর্কের ইতি টানলেন বর্ষীয়ান অভিনেতা ধর্মেন্দ্র। সোমবার ৮৯ বছর বয়সে প্রয়াত হন তিনি। আর মাত্র ছয় বছরের বড় এই ‘দাদা’তুল্য বন্ধুর প্রয়াণে গভীর শোকে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছেন ‘বিগ বি’ অমিতাভ বচ্চন। ভিলে পার্লের মহাশ্মশানে প্রয়াত অভিনেতাকে শেষ শ্রদ্ধা জানাতে উপস্থিত হয়েছিলেন ‘শোলে’র ‘জয়’। বীরুকে শেষ বিদায় জানানোর পর সোশাল মিডিয়ায় এক মর্মস্পর্শী পোস্টে অমিতাভ তাঁর গভীর বেদনা প্রকাশ করেছেন।
দীর্ঘদিনের বন্ধু ধর্মেন্দ্রকে স্মরণ করে অমিতাভ লেখেন, “আরও এক সাহসী দৈত্য আমাদের ছেড়ে চলে গেল। পিছনে রেখে গেল নৈঃশব্দের মধ্যে এক অসহ্য যন্ত্রণা।”
দিলীপ কুমার, দেব আনন্দের মতোই, ধরমজিও ছিলেন মহানতার প্রতীক। ধরমজির প্রভাব প্রতিপত্তি প্রসঙ্গে বলতে গিয়ে অমিতাভ আরও লেখেন, “কেবল সৌন্দর্যের দিক থেকে নয়, মনের দিক থেকেও তাঁর মধ্যে স্নেহ-সরলতা সবসময় উপস্থিত ছিল। পঞ্জাবের যে গ্রামের মাটি থেকে তিনি উঠে এসেছিলেন, সেই মাটির স্বাদ আজীবন তিনি নিজের সঙ্গে রেখেছিলেন। তাঁর কর্মজীবনে তিনি সর্বদা সত্যের পথে হেঁটেছেন, ছিলেন অকপট। সময়ের সঙ্গে সম্পর্কের সংজ্ঞা বদলালেও তিনি বদলাননি এতটুকু। তাঁর হাসি, তাঁর আকর্ষণ এবং তাঁর উষ্ণতা… এক বিরল ঘটনা।”
১৯৭৪ সালে ‘দোস্ত’ সিনেমার মাধ্যমে এই দুই মহাতারকার প্রথমবার স্ক্রিন ভাগ করে নেওয়া শুরু। এরপর ‘চুপকে চুপকে’, ‘শোলে’, ‘নসিব’, ‘রাম বলরাম’ এবং ‘হাম কৌন হ্যায়’-এর মতো আইকনিক ছবিতে তাঁরা একসঙ্গে অভিনয় করেছেন।
ধর্মেন্দ্রর প্রয়াণে হৃদয়বিদারক পোস্টে অমিতাভ শেষে লেখেন, “আমাদের চারপাশের বাতাস শূন্য হয়ে গিয়েছে। এ এমন এক শূন্যতা যা সর্বদা শূন্য থাকবে।” দীর্ঘ অসুস্থতার পর, ২৪ নভেম্বর জুহুর বাসভবনে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন ধর্মেন্দ্র।