আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনেই বনতারা! বিপন্ন প্রাণী আমদানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিল CITES, বিশ্বজুড়ে স্বীকৃতি পেল আম্বানিদের সংরক্ষণ মডেল

জাতিসংঘের ওয়াইল্ডলাইফ ট্রেড বডি কনভেনশন অন ইন্টারন্যাশনাল ট্রেড ইন এনডেঞ্জারার্ড স্পিসিস অফ ওয়াইল্ড ফনা এবং ফ্লোরা (CITES) তাদের আগের সুপারিশ বদলে দিল। এর ফলে অনন্ত আম্বানির স্বপ্নের প্রকল্প ‘বনতারা’র জন্য বিপন্ন বন্য প্রাণী ভারতে আমদানি করতে আর কোনও বাধা রইল না। রয়টার্স সূত্রে জানা গেছে, ভারত, আমেরিকা এবং ব্রাজিল-সহ একাধিক দেশের পক্ষ থেকে দ্রুত পদক্ষেপ ও অবৈধ পশু আমদানির কোনও প্রমাণ না থাকার বিষয়টি জোরালোভাবে তুলে ধরার পরই CITES এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

রবিবার CITES-এর ২০তম সম্মেলনে (conference of the parties) সদস্য দেশগুলি ভারতের অবস্থানকে সর্বাত্মকভাবে সমর্থন করে। তারা নিশ্চিত করেছে যে প্রাণী আমদানির বিষয়ে ভারতের বিরুদ্ধে কোনও পদক্ষেপ নেওয়ার মতো কোনো প্রমাণ বা কারণ নেই। এই স্বীকৃতির মাধ্যমে বনতারার আইনসম্মত, স্বচ্ছ এবং বিজ্ঞানভিত্তিক বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের মডেল আন্তর্জাতিক স্তরে উচ্চ প্রশংসা পেল। এটি আবারও প্রমাণ করল যে বনতারা আন্তর্জাতিক নিয়ম মেনে চলে এবং এটি বিশ্বের সবচেয়ে নৈতিকভাবে পরিচালিত ও পেশাদার সংরক্ষণ সেন্টারগুলোর মধ্যে অন্যতম।

বিশ্বমানের প্রতিষ্ঠান ‘বনতারা’:

CITES-এর স্ট্যান্ডিং কমিটি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ জমা দেওয়া এক রিপোর্টে বনতারাকে বিশ্বমানের, কল্যাণমূলক (welfare-driven) উদ্দেশ্যে তৈরি প্রতিষ্ঠান হিসেবে স্বীকৃতি দিয়েছে। রিপোর্টে স্পষ্ট জানানো হয়েছে, এই প্রতিষ্ঠানে আধুনিক মানের পরিকাঠামো, উন্নত পশু চিকিৎসার ব্যবস্থা এবং উদ্ধার ও পুনর্বাসন ব্যবস্থা রয়েছে। CITES নিশ্চিত করেছে, বনতারার কাজ সম্পূর্ণরূপে প্রাণী সংরক্ষণকে কেন্দ্র করে এবং এখানে কোনও ধরনের বাণিজ্যিক পশু ব্যবসা হয় না।

রবিবার স্ট্যান্ডিং কমিটির আলোচনায় বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা ভারতের অবস্থানকে সমর্থন করে। বিশ্ব সম্প্রদায় কার্যত বনতারার সততা এবং উদ্দেশ্যকে ফের স্বীকৃতি দিয়েছে। এই ফলাফল বনতারা সম্পর্কে তৈরি হওয়া ভুল ধারণার অবসান ঘটিয়েছে এবং স্পষ্টভাবে দেখিয়েছে যে বনতারা বন্যপ্রাণের সংরক্ষণ, প্রতিপালন এবং যত্নের দিকেই সঠিক ভাবে মনোযোগ দেয়।