কসবা হত্যাকাণ্ডে চাঞ্চল্যকর মোড়, লিভ-ইন জুটি খুন করে এটিএম থেকে তুলল টাকা, প্রকাশ্যে এল লোমহর্ষক প্ল্যান!

কসবা হত্যাকাণ্ডে এবার প্রকাশ্যে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য। বীরভূমের যুবক আদর্শ লোসালকাকে খুনের ঘটনায় ধৃত ধ্রুব মিত্র এবং কমল সাহা ছিলেন লিভ-ইন পার্টনার। দমদমের একটি ভাড়া বাড়িতে থাকতেন তাঁরা। কলকাতা পুলিশের গোয়েন্দা প্রধান রূপেশ কুমার সাংবাদিক বৈঠকে এই কথা জানিয়েছেন।

গোয়েন্দা প্রধানের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একটি ডেটিং অ্যাপের মাধ্যমে গত ২০ নভেম্বর যুবতী কমল সাহার সঙ্গে আদর্শের পরিচয় হয়। এরপর ২১ নভেম্বর রাতে তাঁরা কসবার একটি হোটেলে দু’টি রুম ভাড়া নেন এবং তিনজন মিলে পার্টি করেন।

পুলিশের তদন্তে উঠে এসেছে, হোটেলের ঘরে ধস্তাধস্তির প্রমাণ পাওয়া গিয়েছে। ঘরের মধ্যে জিনিসপত্র ছড়ানো ছিল এবং আদর্শের শরীরে ছিল আঘাতের চিহ্ন। রূপেশ কুমার জানান, ধস্তাধস্তির ফলে আদর্শ জ্ঞান হারালে ধ্রুব এবং কমল তাঁকে শ্বাসরোধ করে খুন করেন। এরপর তাঁরা মৃতের ওয়ালেটে থাকা দেড় হাজার টাকা, দু’টি মোবাইল ফোন এবং এটিএম কার্ড নিয়ে রাত ২টো নাগাদ হোটেল থেকে চম্পট দেন।

খুনের পর এটিএম পিন বদল ও টাকা তোলা:

গ্রেফতারির আগে ধৃত কমল ও ধ্রুবর কাণ্ড আরও ভীতি জাগায়। রাতেই উলটোডাঙায় একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের এটিএমে যান তাঁরা। আদর্শের ফোন লক থাকায় সিম কার্ড খুলে নিজেদের ফোনে লাগান। এরপর ‘ফরগট পিন’ অপশন ব্যবহার করে ওটিপি দিয়ে এটিএম কার্ডের পিন বদলে ১১ হাজার টাকা তোলেন। টাকা তোলার পর দু’জনে ট্রেনে করে বিভিন্ন জায়গায় ঘুরে বেড়ান। পরে পুলিশ নদিয়ার ধ্রুব মিত্র এবং ব্যারাকপুরের কমলের এই লিভ-ইন জুটিকে গ্রেফতার করে।

যদিও পুলিশ সূত্রের খবর, নানা জায়গায় ঘুরেও আত্মগোপনের সুযোগ না পেয়ে কমল ও ধ্রুব কসবা থানায় আত্মসমর্পণ করেন। ২২ নভেম্বর দুপুরে কসবার হোটেলে আদর্শের নিথর ও বিবস্ত্র দেহ উদ্ধার হয়। তবে, খুনের আসল কারণ এখনও পুলিশের কাছে স্পষ্ট নয়। ধৃতদের বয়ানে অসঙ্গতি থাকায় পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদে সেই বিষয়টি পরিষ্কার হবে বলে জানিয়েছে লালবাজার।