তৃণমূলের ক্যাডাররা পথে! BLO-দের মিছিলে ৮০% ই কর্মী? বিস্ফোরক অভিযোগ বিজেপির, SIR নিয়ে তুমুল চাপ-বিতর্ক!

ভোটার তালিকা পরিমার্জন (SIR) প্রক্রিয়ার বাড়তি কাজের চাপ এবং সময়সীমা বৃদ্ধির দাবিতে আজ চিফ ইলেক্টোরাল অফিসারের (CEO) দফতরের উদ্দেশ্যে মিছিল করেন বুথ স্তরীয় আধিকারিকরা (BLO)। কিন্তু এই মিছিল ঘিরে এবার উঠে এল চাঞ্চল্যকর রাজনৈতিক বিতর্ক। বিজেপির শীর্ষ নেতৃত্বের অভিযোগ, এই মিছিলে বেশিরভাগই আসল BLO নন, বরং তাঁরা শাসকদল তৃণমূল কংগ্রেসের ক্যাডার ও সমর্থক।
বিজেপির বিস্ফোরক অভিযোগ
বিজেপির পক্ষ থেকে সরাসরি অভিযোগ করা হয়েছে যে, মিছিলে উপস্থিত ভিড়ের প্রায় ৮০ শতাংশই BLO নন। বিজেপি নেতৃত্বের দাবি, ভিডিও-ফুটেজ দেখলেই বোঝা যাচ্ছে, মিছিলে অনেকেই সংবাদমাধ্যমকে স্বীকার করছেন যে, তাঁরা সরকারি কর্মচারী, শিক্ষিকা বা স্কুলের সঙ্গে যুক্ত হলেও BLO দায়িত্বে নেই। বিজেপি নেতাদের বক্তব্য, “আসল BLO-দের অনেকেই এই আন্দোলনে অংশ নিতে চাননি। তাই ভিড় বাড়ানোর রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে তৃণমূল নিজেদের সমর্থকদের রাস্তায় নামিয়েছে।” এমনকি ২০১১ সালের পর নিয়োগপ্রাপ্ত সরকারি কর্মীদের চাকরি হারানোর ভয় দেখানো হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন বিজেপি নেতৃত্ব।
প্রতি-আক্রমণ এবং আসল দাবি
যদিও ঘটনাস্থলে থাকা আন্দোলনকারীরা এবং তৃণমূল নেতৃত্ব এই অভিযোগ উড়িয়ে দিয়েছেন। মিছিলে অংশ নেওয়া একাধিক ব্যক্তি সংবাদমাধ্যমকে জানান, তাঁরা শিক্ষক বা অন্য সরকারি কর্মচারী হলেও BLO দায়িত্বও পালন করছেন, তাই তাঁদের পেশা দিয়ে যাচাই করা ঠিক নয়। তাঁদের মূল দাবি— কাজের চাপ কমানো এবং সময়সীমা বাড়ানো— এর সঙ্গে রাজনীতির কোনো সম্পর্ক নেই।
অন্যদিকে, তৃণমূল কংগ্রেসের নেতারা অভিযোগ উড়িয়ে দিয়ে বলেছেন, “BLO-রা বাড়ি বাড়ি যাচাই, ডিজিটাল ফর্ম পূরণ সহ অস্বাভাবিক পরিমাণ কাজের চাপে রয়েছেন। তাঁদের সময়সীমা বাড়ানোর দাবি সম্পূর্ণ ন্যায্য।”
আন্দোলনের নেপথ্যে কী?
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বেশ কয়েকজন BLO জানান, “SIR প্রক্রিয়ায় এত অল্প সময়ে বিপুল কাজ করানো হচ্ছে। বাড়ি বাড়ি যাচাই করতে গেলে মানুষ পাওয়া যায় না এবং ভুল হলে দায় BLO-র উপর চাপে। তাই সময়সীমা বাড়ানো অত্যন্ত প্রয়োজন।” তবে আরেক অংশের দাবি, রাজনৈতিক দলের নির্দেশে আন্দোলনে অংশ না নিলে চাকরির নিরাপত্তা নিয়ে ভয় তৈরি হওয়ায় অনেকেই বাধ্য হয়েছেন রাস্তায় নামতে।
নির্বাচনী বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সংঘাত অত্যন্ত সংবেদনশীল, কারণ SIR প্রক্রিয়া থমকে গেলে ভোটের নির্দিষ্ট ক্যালেন্ডারও বিশৃঙ্খল হতে পারে। এখন রাজ্যের প্রশাসনিক কাঠামো এবং রাজনৈতিক দূরত্ব পেরিয়ে নির্বাচন কমিশন কী সিদ্ধান্ত নেয়, সেদিকেই তাকিয়ে রয়েছে গোটা রাজ্য।