এসআইআর (SIR) বিতর্কের আবহে কড়া পদক্ষেপ, ভোটার তালিকার কাজে গাফিলতি, উত্তর প্রদেশে ৬০ জন বিএলও-র বিরুদ্ধে একসঙ্গে FIR!

ভোটার তালিকা পরিমার্জন (Special Summary Revision – SIR) প্রক্রিয়া ঘিরে দেশজুড়ে যখন বিতর্ক ও কাজের চাপ বাড়ছে, ঠিক সেই সময়ই উত্তর প্রদেশ প্রশাসন নিল এক বড় পদক্ষেপ। ভোটার তালিকার নিবিড় পরিমার্জন ও এনুমারেশন (গণনা) কাজের দায়িত্বে থাকা ৬০ জন বুথ স্তরীয় আধিকারিক (BLO) এবং ৭ জন সুপারভাইজারের বিরুদ্ধে একসঙ্গে FIR (ফার্স্ট ইনফরমেশন রিপোর্ট) দায়ের করেছে জেলা প্রশাসন। পাশাপাশি বেহরিচ জেলায় আরও দু’জন বিএলওকে সাসপেন্ড করা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, সম্প্রতি বাংলায় তিন বিএলও-র মৃত্যু এবং কেরলে ‘কাজের চাপে’ এক বিএলও-র আত্মহত্যার ঘটনার পর থেকেই নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন বাড়ছিল। সেই চাপের মধ্যেই উত্তর প্রদেশের এই কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার প্রসঙ্গ সামনে এল।
নয়ডায় কেন ৬০ জন বিএলও-র বিরুদ্ধে এফআইআর?
সূত্রের খবর, জনপ্রতিনিধি আইন ৩২ ধারার ভিত্তিতে এই এফআইআর দায়ের করার নির্দেশ দিয়েছেন নয়ডার জেলাশাসক (DM) মেধা রূপম, যিনি বর্তমানে জেলার নির্বাচন আধিকারিক হিসেবেও দায়িত্ব সামলাচ্ছেন। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, এই ৬০ জন বিএলওকে তাঁদের কাজের রিপোর্ট জমা দেওয়ার জন্য একাধিকবার নোটিস পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু তাঁরা সেই রিপোর্ট দপ্তরে জমা দেননি। উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বারংবার নির্দেশ অমান্য করায় তাঁদের বিরুদ্ধে জেলার তিনটি থানায় আলাদা করে লিখিত অভিযোগ দায়ের করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বেহরিচে ২ জন বিএলও সাসপেন্ড
উত্তর প্রদেশের বেহরিচ জেলাতেও একই কারণে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। সেখানে দু’জন বিএলও— শামা নাফিজ ও অনুরাগ-কে সাসপেন্ড করা হয়েছে। শামা নাফিজ স্থানীয় একটি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধানশিক্ষিকা। অভিযোগ, তাঁকে বিএলও-র দায়িত্ব দেওয়া হলেও তিনি কোনো কাজ করেননি। এমনকি উর্ধ্বতন আধিকারিকরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করলেও তিনি ফোন তোলেননি। দ্বিতীয় বিএলও অনুরাগও তাঁর দায়িত্ব পূরণ করতে পারেননি। এই গাফিলতির কারণেই নির্বাচন কমিশন তাঁদের সাসপেন্ড করেছে।
এসআইআর প্রক্রিয়া নিয়ে যখন দেশজুড়ে বিতর্ক তুঙ্গে, তখন নয়ডায় ৬০ জন বিএলও-র বিরুদ্ধে এফআইআর এবং বেহরিচে ২ জনের সাসপেনশন— প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান স্পষ্টতই সেই বার্তা দিচ্ছে যে, কাজ সময়মতো শেষ না করলে এবং উর্ধ্বতনদের নির্দেশ অমান্য করলে কঠোর শাস্তির মুখে পড়তে হবে।