নাইজিরিয়ায় ভয়ঙ্কর কাণ্ড! দিনের আলোয় ক্যাথলিক স্কুল থেকে ৩০০-র বেশি পড়ুয়া ও শিক্ষককে অপহরণ করল সশস্ত্র দস্যুরা, নড়েচড়ে বসল আমেরিকা

নাইজিরিয়ার নর্থ-সেন্ট্রাল নাইজা স্টেট-এ দিনের আলোয় এক ভয়ঙ্কর গণ-অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একটি বেসরকারি ক্যাথলিক স্কুল থেকে ৩০০-রও বেশি পড়ুয়া ও শিক্ষক-শিক্ষিকাকে অপহরণ করে নিয়ে গেল সশস্ত্র দস্যুদের একটি দল। গত কয়েক মাস ধরে চলা লাগাতার হামলা ও অস্থিরতার আবহে এত সংখ্যক পড়ুয়াকে অপহরণের ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। আমেরিকাও এই ঘটনায় নড়েচড়ে বসেছে।

অপহরণের বিস্তারিত

ক্রিশ্চান অ্যাসোসিয়েশন অফ নাইজিরিয়ার তরফে জানানো হয়েছে, শুক্রবার এই ঘটনাটি ঘটে নাইজা স্টেটের সেন্ট মেরি’জ স্কুলে। সশস্ত্র দস্যুদের দলটি ৩০৩ জন পড়ুয়া এবং ১২ জন শিক্ষক-শিক্ষিকাকে অপহরণ করে নিয়ে যায়। অপহৃত পড়ুয়াদের মধ্যে ১০ বছর থেকে ১৮ বছর বয়সি ছেলে-মেয়ে দুই-ই রয়েছে। হামলা চলাকালীন কয়েক জন পড়ুয়া কোনো ক্রমে প্রাণ বাঁচিয়ে পালাতে সক্ষম হলেও, বাকিদের অবস্থা এখনও অজানা।

অপহৃত পড়ুয়াদের অভিভাবকদের সঙ্গে দেখা করার পর রেভারেন্ড দউয়া ইয়োহানা জানান, পালানোর চেষ্টা করার সময় আরও ৮৮ জন পড়ুয়াকে অপহরণ করা হয়। এই ঘটনার পর নাইজিরিয়ার উত্তরের সমস্ত সরকারি স্কুল সাময়িক ভাবে বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। অপহরণের পর মুক্তিপণ চেয়ে পরিবারের কাছে মোটা অঙ্কের টাকা দাবি করা হচ্ছে বলে খবর।

হামলার লাগাতার বৃদ্ধি

নাইজিরিয়ার রাজধানী আবুজার একেবারে গা ঘেঁষে নাইজা রাজ্যের অবস্থান। এই সপ্তাহের গোড়াতেই কোয়ারাতে একই কায়দায় গির্জায় হামলা চালিয়ে পাদরি ও সাধারণ মানুষকে অপহরণ এবং দু’জনের হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। উত্তর-পশ্চিমের কেব্বিতে মেয়েদের বোর্ডিং স্কুলে ঢুকেও ২৫ জনকে অপহরণ করা হয় এবং স্কুলের ভাইস প্রিন্সিপালকে গুলি করে হত্যা করে দস্যুরা।

এই লাগাতার হামলার জন্য স্থানীয়দের মধ্যে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করছে না বলে অভিযোগ উঠতে শুরু করেছে। স্থানীয় লোকালয়ে ঢুকে যখন তখন হামলা চলছে, দলে দলে মানুষজনকে অপহরণের পাশাপাশি হত্যার ঘটনাও ঘটছে।

আমেরিকা ও আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া

নাইজিরিয়ায় সশস্ত্র দস্যুদের হামলা বৃদ্ধি এবং একই সঙ্গে ধর্মীয় হিংসা ও সাম্প্রদায়িক বিবাদের (কৃষক-পশুপালকের মধ্যে জমি নিয়ে বিবাদ) ঘটনা সামনে আসছে। সম্প্রতি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই বিষয়ে সরব হন। তিনি অভিযোগ তোলেন যে নাইজিরিয়ায় ইসলামি উগ্রপন্থীরা খ্রিস্টানদের উপর গণহত্যা চালাচ্ছে। খ্রিস্টানদের রক্ষা করতে তিনি সামরিক পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দেন এবং চলতি মাসেই নাইজিরিয়াকে ‘বিপজ্জনক দেশ’ বলে অভিহিত করেন।

যদিও আন্তর্জাতিক কূটনীতিক ও নাইজিরিয়ার মানবাধিকার সংস্থাগুলির মতে, চরমপন্থী গোষ্ঠীগুলি খ্রিস্টান এবং মুসলিম, উভয় সম্প্রদায়ের হাজার হাজার মানুষকেই হত্যা করেছে। মানবাধিকার সংস্থা বুলামা বুকার্তি সিএনএন-কে জানিয়েছেন, আগস্ট মাসে কাতসিনার মসজিদে ঢুকে নির্বিচারে গুলি চালিয়ে কমপক্ষে ৫০ জন মুসলিমকে হত্যা করে সশস্ত্র দস্যুরা।

অনেকেই এই হামলার সময়কাল নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন, কারণ বর্তমানে খ্রিস্টানদের উপর হামলা নিয়ে আলোচনা করতে নাইজিরিয়া থেকে একটি প্রতিনিধিদল ওয়াশিংটন পৌঁছেছে। ফলে, ইচ্ছাকৃতভাবে এই সময়েই পর পর হামলার ঘটনা ঘটানো হচ্ছে বলেও মত প্রকাশ করেছেন অনেকে।