সময়সীমা শেষ, সন্ধে ৬টায় CID-র মুখোমুখি? টানটান উত্তেজনায় অভিষেকের হাজিরা পর্ব

বিধানসভার সই জাল কাণ্ডে কলকাতা হাইকোর্টের বেঁধে দেওয়া সময়সীমা শেষ হতে চলেছে। সন্ধ্যা ৬টার মধ্যে ভবানী ভবনে সিআইডি (CID) দপ্তরে হাজিরা দেওয়ার নির্দেশের প্রেক্ষিতে দিল্লি থেকে বিমানে কলকাতার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছেন অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়। বিকেল ৪টে নাগাদ তাঁর বিমানবন্দর পৌঁছানোর কথা। এবার আর কোনো অজুহাত বা বাড়তি সময় পাওয়ার সুযোগ নেই বলে মনে করছে রাজনৈতিক মহল।

ভবানী ভবনের দিকে নজর: হাইকোর্ট অভিষেককে আগামী ১৪ দিনের জন্য গ্রেপ্তার থেকে রক্ষাকবচ দিলেও, তদন্তে পূর্ণ সহযোগিতার নির্দেশ দিয়েছে। এর আগে তিন-তিনবার সিআইডি-র তলব এড়িয়েছেন তিনি, কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। এখন প্রশ্ন একটাই— বিমানবন্দর থেকে বেরিয়ে তিনি কি সোজা ভবানী ভবনের দিকে পা বাড়াবেন? নাকি নতুন কোনো আইনি কৌশল অবলম্বন করবেন? সন্ধ্যা ৬টার দিকেই পরিষ্কার হবে সেই উত্তর।

কল্যাণের বিদ্রোহে অস্বস্তি: তদন্তের চাপ সামলানোর পাশাপাশি তৃণমূলের অন্দরেও প্রবল অস্বস্তিতে অভিষেক। তাঁর মামলা থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন বর্ষীয়ান আইনজীবী কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। কল্যাণের এই পদত্যাগ শুধুমাত্র আইনি পরিবর্তন নয়, বরং তৃণমূলের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক সমীকরণেও বড় ধাক্কা দিয়েছে। তাঁর করা ‘উদ্ধত’ মন্তব্যের তির সরাসরি বিঁধেছে অভিষেককে। এই পরিস্থিতিতে দলের অন্দরেও এখন একপ্রকার চাপে রয়েছেন তিনি।

আইনি জটিলতার কিনারায়: বিধানসভার বিরোধী দলনেতা নির্বাচনের চিঠিতে সই জালের মতো স্পর্শকাতর অভিযোগে সিআইডি আধিকারিকরা এর আগে একাধিকবার তাঁর কালীঘাটের বাসভবনে হানা দিয়েছিলেন। তিনবার হাজিরা এড়ানোর পর আদালতের নির্দেশই এখন তাঁর শেষ অবলম্বন। যদিও আদালতের পক্ষ থেকে ১৪ দিনের রক্ষাকবচ দেওয়া হয়েছে, তবুও তদন্তের মুখোমুখি হওয়া এখন তাঁর কাছে এক অনিবার্য আইনি বাধ্যবাধকতা।

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ইতিমধ্যে কলকাতায় ফিরলেও অভিষেককে নিয়ে রাজনৈতিক উত্তাপ এখন তুঙ্গে। ভবানী ভবনের সামনে সিআইডি দপ্তরে আজ বিকেল থেকে শুরু হয়েছে কড়া নজরদারি। তৃণমূল সাংসদ শেষ পর্যন্ত হাজিরা দিয়ে তদন্তের মুখোমুখি হন কি না, সেদিকেই তাকিয়ে আছে রাজ্যবাসী।