আগামী সপ্তাহে ধেয়ে আসতে পারে ঘূর্ণিঝড়,জেনেনিন কি আপডেট দিল IMD

নভেম্বরের শেষ প্রান্তে এসে ফের একবার ঘূর্ণিঝড়ের চোখরাঙানি দেখছে বঙ্গোপসাগর। ভারতের আবহাওয়া দফতর (IMD) জানিয়েছে, দক্ষিণ আন্দামান সাগরে শনিবার একটি নিম্নচাপ অঞ্চল তৈরি হয়েছে, যা আগামী সোমবারের মধ্যেই আরও ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে। আবহাওয়া বিশেষজ্ঞদের অনুমান, এর প্রভাবে শীতের আগমন ভেস্তে যেতে পারে বাংলা-সহ পার্শ্ববর্তী রাজ্যগুলিতে।

🔥 কী বলছে IMD-র পূর্বাভাস?
উৎপত্তি: নিম্নচাপ অঞ্চলটি মালাক্কা প্রণালীর মধ্যবর্তী অংশে উচ্চবায়ু সম্পন্ন ঘূর্ণাবর্ত সঞ্চালনের ফলে উদ্ভূত হয়েছে, যা সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৫.৮ কিমি পর্যন্ত বিস্তৃত।

গতিপথ: শুক্রবার প্রকাশিত পূর্বাভাস অনুযায়ী, এটি পশ্চিম ও উত্তর পশ্চিম দিকে অগ্রসর হতে পারে এবং পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে দক্ষিণ পশ্চিম বঙ্গোপসাগরে আরও শক্তিশালী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

ঘূর্ণিঝড়ের সম্ভাবনা: ভুবনেশ্বরের আঞ্চলিক আবহাওয়া দফতরের ডিরেক্টর মনোরমা মোহান্তি জানিয়েছেন, ‘এখনও পর্যন্ত একটি নিম্নচাপের পূর্বাভাস রয়েছে। নিম্নচাপ অঞ্চলটি তৈরি হয়ে যাওয়ার পর এটি সম্পর্কে পরবর্তী আপডেট দেওয়া যাবে।’

সময়সীমা: IMD-র সাইক্লোজেনেসিস প্রোবাবিলিটি চার্ট অনুযায়ী, নিম্নচাপ তৈরি হতে অন্তত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগবে। সর্বাধিক দেরি হলে ১৪৪ থেকে ১৬৮ ঘণ্টার মধ্যে তা তৈরি হতে পারে।

নামকরণ: যদি এটি ঘূর্ণিঝড়ে পরিণত হয়, তবে পূর্ব অনুমোদিত তালিকা অনুসারে, উত্তর ভারত মহাসাগরে পরবর্তী যে ঘূর্ণিঝড়টি তৈরি হবে সেটির নাম হবে ‘সেনইয়ার’।

🌧️ কোথায় কেমন প্রভাব?
সম্ভাব্য ঘূর্ণিঝড় তৈরি হলে দক্ষিণ উপদ্বীপীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে। ইতিমধ্যেই তামিলনাড়ুর বিভিন্ন জায়গায় ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টি শুরু হয়ে গিয়েছে। ওড়িশাতেও নতুন করে বৃষ্টির পূর্বাভাস দেখা দিয়েছে, যদিও কৃষকদের জন্য এখনও কোনো বিশেষ সতর্কবার্তা জারি করেনি আবহাওয়া দফতর।

স্যাটেলাইট ছবিতে দেখা যাচ্ছে, দক্ষিণ দক্ষিণ বঙ্গোপসাগর থেকে দক্ষিণ আন্দামান সাগরের উপর নিম্ন ও মাঝারি মাত্রায় মেঘ ঘনীভূত হচ্ছে। মধ্য বঙ্গোপসাগরেও মেঘের সঞ্চার দেখা যাচ্ছে।

❄️ ভেস্তে যেতে পারে শীতের আগমন!
কয়েকদিন ধরে ভোরের কুয়াশা আর ঠান্ডা হাওয়ার সঙ্গে পারদ নামতে শুরু করলেও, গত দু’দিন ধরে কলকাতা সহ দক্ষিণবঙ্গের জেলায় জেলায় পারদ ঊর্ধ্বমুখী। এরই মধ্যে নিম্নচাপের চোখরাঙানি শীতপ্রেমীদের মন খারাপের কারণ হয়েছে।

নভেম্বরের দ্বিতীয় সপ্তাহে যে হিমেল আমেজ শুরু হয়েছিল, নিম্নচাপের জেরে নভেম্বরের শেষ কয়েকটা দিনে সেই আমেজ ভেস্তে যেতে পারে। এর ফলে শীতের পথে বৃষ্টি ফের একবার কাঁটা হয়ে দাঁড়ানোর আশঙ্কা করছেন বাংলার মানুষ।