ফর্ম জমা না দিলেই নাম বাদ! ৯ই ডিসেম্বর আসছে খসড়া ভোটার তালিকার সঙ্গে ‘বহিষ্কৃত’দের নতুন তালিকা

পশ্চিমবঙ্গ সহ দেশের ১২টি রাজ্যে চলছে স্পেশাল এনুমারেশন ড্রাইভ (SIR)-এর কাজ। রাজ্যে গত মঙ্গলবার বিকেল ৪টা পর্যন্ত সাড়ে ছয় কোটিরও বেশি ফর্ম বিলির কাজ শেষ হয়েছে। এই এনুমারেশন ফর্ম পূরণ করে জমা দেওয়ার শেষ দিন ধার্য করা হয়েছে আগামী ৪ঠা ডিসেম্বর। এর ঠিক পাঁচ দিন পর, অর্থাৎ ৯ই ডিসেম্বর প্রকাশিত হবে খসড়া ভোটার তালিকা।
তবে এবারের খসড়া তালিকা প্রকাশের সঙ্গে একটি নতুন এবং গুরুত্বপূর্ণ সংযোজন আসছে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নির্বাচন কমিশন এবার বিহারের পর পশ্চিমবঙ্গে প্রথমবার একটি পৃথক তালিকা প্রকাশ করতে চলেছে।
খসড়ার পাশে ‘বহিষ্কৃত’দের তালিকা
নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী, ৯ই ডিসেম্বর যখন খসড়া ভোটার তালিকা প্রকাশিত হবে, তখন তার পাশেই এই নতুন তালিকাটি ঝোলানো হবে। ২০২৫ সালের ভোটার তালিকায় যাদের নাম রয়েছে, তাদের প্রত্যেককেই এনুমারেশন ফর্ম দেওয়া হচ্ছে।
যারা এই ফর্ম পূরণ করে জমা দেবেন, কেবল তাদের নামই খসড়া ভোটার তালিকায় স্থান পাবে।
যারা এই ফর্ম পূরণ করে জমা দেবেন না, তাদের নাম উঠবে পাশের তালিকায়। অর্থাৎ, ফর্ম জমা না দিলে তাদের নাম খসড়া তালিকা থেকেই বাদ চলে যাবে।
এই নতুন তালিকায় শুধুমাত্র নাম বাদ যাওয়ার বিষয়টিই থাকবে না, বরং কী কারণে নামটি বাদ গেল, সেই কারণও উল্লেখ করা থাকবে।
কারা বাদ যেতে পারেন?
নির্বাচন কমিশন সূত্রে খবর, এই নতুন নিয়মে মৃত ভোটার, ভুয়ো ভোটার বা অন্য কোথাও স্থানান্তরিত হয়ে যাওয়া ভোটারদের নাম সহজেই বাদ দেওয়া সম্ভব হবে। মৃত ভোটাররা যেহেতু ফর্ম জমা দিতে পারবেন না, তাই তাদের নামও এই বহিষ্কৃতদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হবে। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশের পর নির্বাচন কমিশন এই নিয়ম বিহারে সফলভাবে প্রয়োগ করার পর এবার পশ্চিমবঙ্গেও বলবৎ করেছে। নির্বাচন কমিশনের ইতিহাসে এই প্রথমবার দেশজুড়ে এমন কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
বিহারের এসআইআর-এর পর যখন খসড়া তালিকা প্রকাশিত হয়েছিল, তখন বহু নাম বাদ যাওয়ায় রাজনৈতিক দলগুলি সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট তখন নির্দেশ দেয়—কেন নাম বাদ গেল, তা আলাদা তালিকা করে প্রকাশ করতে হবে। সেই নির্দেশ মেনেই নির্বাচন কমিশন আগামী ৯ই ডিসেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশের আগে আনুমানিক কতজন বাদ পড়তে চলেছেন, তার চিত্র পরিষ্কার করতে এই তালিকা প্রকাশ করছে।