অবসর ভেঙে প্রত্য়াবর্তন সফল! কুইন্টন ডি’ককের অবিশ্বাস্য শতরানে পাকিস্তানকে উড়িয়ে দিল দক্ষিণ আফ্রিকা, সিরিজ এখন ১-১

গত বিশ্বকাপের পর ওয়ান-ডে ক্রিকেট থেকে সন্ন্যাস নিলেও, ২০২৭ বিশ্বকাপকে পাখির চোখ করে প্রায় দু’বছর পর অবসর ভেঙে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ফিরেছেন কুইন্টন ডি’কক। আর তাঁর এই সিদ্ধান্ত যে কতটা সময়োপযোগী, তা পাকিস্তানের বিরুদ্ধে চলমান সিরিজের দ্বিতীয় ম্যাচেই প্রমাণ করে দিলেন তারকা ওপেনার। প্রথম ম্যাচে অর্ধশতরানের পর দ্বিতীয় ওয়ানডে-তে তাঁর অপরাজিত সেঞ্চুরির সুবাদে দক্ষিণ আফ্রিকা ৫৯ বল বাকি থাকতে ৮ উইকেটে বিশাল জয় ছিনিয়ে নিল। এর ফলে তিন ম্যাচের সিরিজে ১-১ সমতা ফেরাল সফরকারী প্রোটিয়ারা।
২৭০ রানের লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রোটিয়াদের জয়ের প্রধান কারিগর সেই স্টাম্পার-ব্যাটার কুইন্টন ডি’কক। তিনি ১১৯ বলে ১২৩ রানে অপরাজিত থাকেন, যা তাঁর ২২তম ওডিআই সেঞ্চুরি। দলের জয়ের পথে এদিন একটি বিশেষ নজির গড়লেন ডি’কক। সফরকারী ব্যাটার হিসেবে এশিয়ার মাটিতে সর্বাধিক শতরানের নিরিখে তিনি কিংবদন্তি ক্রিস গেইলকে টপকে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এলেন। এশিয়ায় তাঁর শতরানের সংখ্যা এখন ৯। এই তালিকায় ডি’ককের প্রাক্তন সতীর্থ এবি ডি’ভিলিয়ার্স ১০টি শতরান নিয়ে শীর্ষে রয়েছেন।
ফয়সলাবাদে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল পাকিস্তান। ওপেনার সইম আয়ুব (৫৩), সলমন আলি আঘা (৬৯) এবং মহম্মদ নওয়াজের (৫৯) অর্ধশতরানের সৌজন্যে পাকিস্তান নির্ধারিত ৫০ ওভারে ৯ উইকেট হারিয়ে ২৬৯ রান তোলে। দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে বাঁ-হাতি পেসার নান্দ্রে বার্গার কেরিয়ার সেরা পারফরম্যান্স করে ১০ ওভারে ৪৬ রানে ৪ উইকেট তুলে নেন।
জবাবে, লুয়ান ডি প্রিটোরিয়াস (৪৬) এবং ডি’ককের ওপেনিং জুটিতে ৮১ রান ওঠে। প্রিটোরিয়াস ফিরলেও টনি ডি জর্জিকে (৬৩ বলে ৭৬) নিয়ে দ্বিতীয় উইকেটে ১৫৩ রানের বিশাল জুটি গড়েন ডি’কক। ৯৬ বলে সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর অধিনায়ক ম্যাথু ব্রিৎজকেকে (অপরাজিত ১৭) সঙ্গে নিয়ে দলকে জিতিয়ে মাঠ ছাড়েন তিনি। ডি’ককের ১২৩ রানের ইনিংসে ছিল ৮টি চার এবং ৭টি ছক্কা।
প্রথম ম্যাচ রুদ্ধশ্বাসভাবে পাকিস্তান জেতার পর ডি’ককের ব্যাটিং বিক্রমের সৌজন্যে সমতা ফেরাল প্রোটিয়ারা। ফলে আগামী শনিবার সিরিজের শেষ ম্যাচটি এখন সিরিজ ফাইনাল হয়ে দাঁড়াল।