“জঙ্গিদের হাতে টাকা দেওয়া যাবে না”-পাকিস্তানকে কড়া বার্তা FATF-এর

আন্তর্জাতিক জঙ্গি ফান্ডিং (Terror Funding) এবং আর্থিক দুর্নীতিতে নজরদারি চালানো গ্লোবাল ওয়াচডগ ফাইনান্সিয়াল অ্যাকশন টাস্ক ফোর্স (FATF) এবার সরাসরি পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল। ২০২২ সালে যে দেশটিকে ‘গ্রে লিস্ট’ (Grey List) থেকে মুক্তি দেওয়া হয়েছিল, নতুন করে তার কার্যকলাপের দিকেই আঙুল তুলল সংস্থাটি। বিশেষজ্ঞ মহলের মতে, ভারতের লাগাতার কূটনৈতিক চেষ্টার ফলেই চাপে পড়ে পাকিস্তানকে এই সাবধানবাণী দিতে বাধ্য হলো বিশ্বের এই শীর্ষ সংস্থা।

FATF প্রেসিডেন্টের কড়া বার্তা
ফ্রান্সে আয়োজিত এক কনফারেন্সে উপস্থিত হয়ে FATF-এর প্রেসিডেন্ট এলিজা দি আন্দা মাদরাজো (Eliza de Anda Madrazo) পাকিস্তানকে স্পষ্ট বার্তা দিয়েছেন। তাঁর মতে, গ্রে লিস্ট থেকে বেরিয়ে যাওয়া মানেই কোনো দেশকে আর্থিক দুর্নীতি বা জঙ্গিদের মদত দেওয়ার লাইসেন্স দেওয়া হয়নি।

তিনি বলেন, “এই লিস্টে বর্তমানে উপস্থিত বা আগে এই তালিকায় অন্তর্ভুক্ত কোনও দেশই আর্থিক দুর্নীতি বা জঙ্গিমদতের মতো বিষয়গুলির সঙ্গে জড়িত থাকতে পারবে না। তাই আমরা সব দেশকে, যারা এই লিস্ট থেকে বেরিয়ে গিয়েছে, তাদেরও অপরাধের বিরুদ্ধে লড়াই করার জন্য আহ্বান জানাচ্ছি।”

কেন আবার নজর পাকিস্তানের দিকে?
দীর্ঘদিন জঙ্গি মদত দেওয়ার অভিযোগে FATF-এর গ্রে লিস্টে ছিল পাকিস্তান। ২০২২ সালের অক্টোবর মাসে তারা এই তালিকা থেকে মুক্তি পায়। তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার পরই পাকিস্তান ফের ‘হাতির পাঁচ’ দেখে পুরনো খেলা শুরু করে বলে অভিযোগ। নিজেদের দেশে জঙ্গিঘাঁটি তৈরি, প্রশিক্ষণ এবং ভারতে নানা উপায়ে হামলা চালানো শুরু করে।

সাম্প্রতিককালে, জইশ-ই-মহম্মদ (JeM) ডিজিটাল মাধ্যমে মহিলাদের জিহাদ শিক্ষার জন্য টাকা তোলার ঘোষণা করে। এই ঘটনার পরই পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিল FATF। সংস্থাটি জানিয়েছে, গ্রে লিস্টে থাকা দেশগুলির দিকে এখনও নজরদারি চালাতে হবে, কারণ তাদের আর্থিক দুর্নীতি এবং জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইতে ঘাটতি রয়েছে।

ভারতের বিরাট কূটনৈতিক জয়
পাকিস্তানের এহেন কার্যকলাপ নিয়ে ভারত প্রথম থেকেই সরব ছিল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে পাক প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফ (Shehbaz Sharif) এবং সেনাপ্রধান আসিম মুনিরের (Asim Munir) কুকীর্তি তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়েছে নয়াদিল্লি। এমনকি, সীমান্ত পেরিয়ে ‘অপারেশন সিঁদুর’-এর মতো সামরিক অভিযানের মাধ্যমেও জঙ্গিঘাঁটি ভেঙে দেওয়ার জবাব দিয়েছে ভারত।

বিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক মহলে ভারতের লাগাতার চাপ এবং কূটনৈতিক তৎপরতার ফলেই FATF-কে আবারও পাকিস্তানকে কড়া বার্তা দিতে হলো। এই ঘটনাকে ভারতের বিরাট কূটনৈতিক জয় এবং পাকিস্তানের বড় হার বলেই দেখছেন তাঁরা। এই হুঁশিয়ারির ফলে শরিফ সরকারের উপর জঙ্গিদের ফান্ডিং বন্ধ করার চাপ আরও বাড়ল বলে মনে করা হচ্ছে।