বাবুল সুপ্রিয় কোন শিবিরে? TMC-র ভাঙনের আবহে এ বার মুখ খুললেন সাংসদ

তৃণমূলের অন্দরে বিদ্রোহের আগুন এখন দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়ছে। লোকসভার পর এবার রাজ্যসভাতেও ভাঙনের সুর। এরই মধ্যে যাদবপুরের সাংসদ সায়নী ঘোষ এবং কলকাতা দক্ষিণের সাংসদ মালা রায় বিদ্রোহী শিবিরে যোগ দিয়েছেন বলে খবর। এই পরিস্থিতিতে নতুন করে দলত্যাগের তালিকায় যুক্ত হলেন রাজ্যসভার সাংসদ প্রকাশ চিক বরাইক। তৃণমূলের এই টালমাটাল অবস্থায় নজর ছিল দলের আরেক তারকা সাংসদ বাবুল সুপ্রিয়ের দিকে। শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান স্পষ্ট করলেন তিনি।
বিদ্রোহী শিবিরের ক্রমবর্ধমান চাপের মুখে দাঁড়িয়েও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের প্রতি আনুগত্য বজায় রাখলেন বাবুল সুপ্রিয়। নিজের ফেসবুক পেজে এক পোস্টে তিনি লেখেন, “আমি এখনও বর্তমান দল ও তার নেতৃত্বের সঙ্গেই আছি।” একই সঙ্গে বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট মাথায় রেখে তিনি জানান, পশ্চিমবঙ্গের মানুষের মতামতকে শ্রদ্ধা জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে সমন্বয় বজায় রেখেই তিনি তাঁর উন্নয়নমূলক কাজ এবং MPLAD-এর তহবিল সঠিক পথে ব্যবহারের চেষ্টা করবেন।
বিদ্রোহীদের ‘সাপ’ বলে কটাক্ষ:
এর আগেও গত ৪ জুন সোশ্যাল মিডিয়ায় দলত্যাগীদের কড়া ভাষায় আক্রমণ করেছিলেন বাবুল। বিদ্রোহীদের উদ্দেশে তাঁর তোপ ছিল অত্যন্ত ধারালো। তিনি লেখেন, “যাঁরা একসময় ক্ষমতার লোভে নেত্রীর সান্নিধ্য চেয়েছেন, আজ তাঁরাই দল ভাঙছেন। আমি নিজেও দল ছেড়েছিলাম, কিন্তু অবস্থান বদলে সাংসদ বা বিধায়ক পদ থেকে সরে দাঁড়ানোই নৈতিক।”
সবচেয়ে তাৎপর্যপূর্ণভাবে, দলত্যাগীদের ‘সাপ’ আখ্যা দিয়ে বাবুল বলেন, “কখনও জানতাম না যে একটি সাপ মানুষের ছদ্মবেশে আমাদের মধ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছিল।” এমনকি বিজেপিকেও সতর্ক করে তিনি লিখেছেন, আশা করি এই বিদ্রোহীদের দলে নিয়ে বিজেপি কোনো ভুল করবে না।
তৃণমূলের অন্দরে চাপের মুখে মমতা:
২০১৪ সালে বিজেপির টিকিটে জয়ী হয়ে কেন্দ্রের প্রতিমন্ত্রী হওয়া বাবুল সুপ্রিয় পরবর্তীকালে ‘প্লেয়িং ইলেভেনে’ খেলার আশায় তৃণমূলে যোগ দেন। ২০২২ সালে বালিগঞ্জ উপনির্বাচনে জয়ী হওয়ার পর মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁকে রাজ্যসভায় পাঠান। কিন্তু সায়নী ঘোষ, মালা রায়দের মতো নেতা-সাংসদদের বিদ্রোহ মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কপালে চিন্তার ভাঁজ আরও বাড়িয়ে দিল।
রাজনৈতিক মহলের মতে, একদিকে বিদ্রোহী সাংসদদের আইনগত চ্যালেঞ্জ, অন্যদিকে রাজ্যসভায় একের পর এক পদত্যাগ— সব মিলিয়ে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের জন্য আগামী দিনগুলো কঠিন হতে চলেছে। এখন দেখার, এই ভাঙন ঠেকাতে তৃণমূল শীর্ষ নেতৃত্ব কী কৌশল নেয়।