দীপাবলির চরম ফল! ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা দিল্লি, ৫ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন বাতাসের গুণমান, রেড জোনে ৩৪ এলাকা

দীপাবলির পর টানা তৃতীয় দিন ধোঁয়াশার চাদরে ঢাকা রাজধানী দিল্লি। আদালতের নির্দেশ অগ্রাহ্য করে যথেচ্ছ বাজি পোড়ানোর জেরেই মাত্রাছাড়া দূষণের কবলে পড়েছে দিল্লি ও সংলগ্ন এলাকা। এক সমীক্ষা বলছে, গত পাঁচ বছরের মধ্যে দীপাবলি-পরবর্তীকালে বাতাসের গুণগত মানের নিরিখে চলতি বছর পরিস্থিতি সবচেয়ে খারাপের দিকে গড়িয়েছে।
সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে খবর, সুপ্রিম কোর্টের কড়া নির্দেশ এবং পুলিশের নজরদারি এড়িয়ে দিল্লির বিভিন্ন জায়গায় নির্দিষ্ট দু’ঘণ্টার চেয়েও বেশি সময় ধরে বাজি পোড়ানো হয়েছে। যার ফলস্বরূপ বুধবার সকাল থেকেই চরম ভোগান্তির সম্মুখীন হয়েছেন গোটা রাজ্যের মানুষ।
বুধবার সকাল সাতটা নাগাদ দিল্লির বাতাসের গুণগত মান বা এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (AQI) ছিল ৩৪৫, যা টানা দু’দিন ধরে ‘খুব খারাপ’ (Very Poor) পর্যায়ে রয়েছে।
দিল্লির ৩৮টি পর্যবেক্ষণ কেন্দ্রের মধ্যে ৩৪টি জায়গাই ‘রেড জোন’-এর মধ্যে রয়েছে। অর্থাৎ এই ৩৪টি জায়গায় বাতাসের গুণগত মান ‘খুব খারাপ’ থেকে ‘ভয়াবহ’ (Severe) পর্যায়ে পৌঁছে গেছে। এর মধ্যে পাঞ্জাবি বাগ ও ওয়াজিরপুরে বাতাসের গুণগত মান (AQI) যথাক্রমে ৪৩৩ ও ৪০১, যা ইতিমধ্যেই ‘ভয়াবহ’ পর্যায় অতিক্রম করেছে।
প্রসঙ্গত, গত ১৫ অক্টোবর শীর্ষ আদালত নির্দেশ দিয়েছিল, দীপাবলিতে রাত ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শুধুমাত্র পরিবেশবান্ধব বা ‘সবুজ বাজি’ পোড়ানোর অনুমতি থাকবে। স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম ভেঙে অনেকেই শব্দবাজিও ফাটিয়েছেন। যার ফলে বায়ুদূষণ এবং শব্দদূষণে দীপাবলির আবহে জেরবার দিল্লি।
অন্যদিকে, দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তা দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে দূষণ রোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন থাকার আবেদন করেছিলেন এবং সবুজ বাজি ফাটানোর আর্জি জানিয়েছিলেন। বায়ুদূষণের মাত্রা বাড়তেই আম আদমি পার্টির (আপ) নেতারা বিজেপি সরকারের বিরুদ্ধে ফের সরব হয়েছেন। এই দূষণ ঘিরে রাজনীতিকদের মধ্যে ক্ষোভ ও রাজনৈতিক তরজা আবারও প্রকাশ্যে এসেছে।
শীর্ষ আদালত যদিও দিল্লি-এনসিআর এলাকায় পরিবেশবান্ধব বাজি পোড়ানোর অনুমতি দিয়েছিল এবং পুলিশ নিয়মিত নজরদারি চালিয়েছিল, এমনকি ই-কমার্স সাইটে সবুজ বাজি বিক্রিতে নিষেধাজ্ঞা ছিল—তা সত্ত্বেও উৎসবে মত্ত জনসাধারণ নির্দেশ উপেক্ষা করে বাজি ফাটাতে পিছপা হননি।