দীপাবলির পর চরম পরিণতি! মধ্যপ্রদেশের ‘হিংগোট যুদ্ধ’-এ দগ্ধ ৩৫ জন, প্রাণঘাতী প্রথা নিয়ে প্রশ্ন

সাহস এবং প্রাচীন ঐতিহ্য উদযাপনের এক বিপজ্জনক প্রথা ঘিরে ফের আতঙ্ক ছড়াল। দীপাবলির পরের দিন মধ্যপ্রদেশের ইন্দোরে অনুষ্ঠিত বার্ষিক ‘হিংগোট যুদ্ধ’ (Hingot Yuddh) চলাকালীন অন্তত ৩৫ জন দগ্ধ হয়েছেন। আহতদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় তাঁকে ইন্দোরের একটি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

শতাব্দী প্রাচীন বলে কথিত এই প্রথা প্রতি বছর হাজার হাজার মানুষকে আকর্ষণ করে। গৌতমপুরা এবং রুঞ্জি গ্রামের ‘তুররা’ ও ‘কালঙ্গি’ নামে দুটি দল এই তীব্র যুদ্ধে অংশগ্রহণ করে। ঢাকের শব্দে শুরু হওয়া এই প্রথায় ঐতিহ্যবাহী পোশাকে সজ্জিত যোদ্ধারা নিজেদের ঢাল হাতে নিয়ে একে অপরের দিকে আগুন ভর্তি ‘হিংগোট’ (Hingot) ছুঁড়ে মারেন।

দেবনারায়ণ মন্দিরের কাছে প্রায় ২০০ ফুট দূরত্বে দুই দল অবস্থান নিয়ে এই যুদ্ধ শুরু করে। ‘হিংগোট’ হলো এক ধরনের বুনো ফলের শুকনো খোল, যার ভেতর বারুদ ভরে হলুদ মাটি দিয়ে মুখ বন্ধ করে গোলাকার আগুনের খোলস তৈরি করা হয়। যোদ্ধারা বাঁশের লাঠিতে আগুন জ্বালিয়ে তাতে এই গোলাকার আগুনের খোলস যুক্ত করে প্রতিপক্ষের দিকে ছোড়ে।

এই বিপজ্জনক প্রথা পরিচালনার জন্য স্থানীয় প্রশাসন ফায়ার ব্রিগেড, অ্যাম্বুলেন্স এবং পুলিশ মোতায়েন করেছিল। কিন্তু যুদ্ধের তীব্রতা ও অংশগ্রহণকারীদের চরম উন্মাদনার কারণে একাধিক মানুষ আহত হন। পরিস্থিতি হাতের বাইরে চলে যাওয়ায় শেষমেশ নিরাপত্তা জনিত কারণে যুদ্ধটি নির্ধারিত সময়ের আধ ঘণ্টা আগেই বন্ধ করে দেওয়া হয়। আহত ৩৫ জনকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।

প্রতি বছরই এই প্রথায় বহু অংশগ্রহণকারী এবং দর্শক আহত হন। ২০১৭ সালে এক যুবক প্রাণ হারানোর পর এই প্রথা নিষিদ্ধ করার দাবি ওঠে। মধ্যপ্রদেশ হাইকোর্টে এটিকে “অমানবিক ও প্রাণঘাতী” বলে অভিহিত করে একটি আবেদন এখনও বিচারাধীন। তা সত্ত্বেও স্থানীয় গ্রামবাসীরা এটিকে শতাব্দী প্রাচীন ঐতিহ্য এবং সাহসিকতার প্রতীক হিসেবে দাবি করে, প্রতি বছরই এই প্রথা জারি রেখেছেন।