‘মোদী আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু’! ফোনে দীপাবলির শুভেচ্ছা জানিয়ে হোয়াইট হাউসে প্রদীপ জ্বালালেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প!

দীপাবলির পবিত্র আবহে উষ্ণ শুভেচ্ছা বিনিময় করলেন বিশ্বের দুই বৃহত্তম গণতন্ত্রের নেতা। মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে। উৎসবের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি দুই নেতা সন্ত্রাসবাদের প্রতিটি রূপের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে লড়াই চালিয়ে যাওয়ার জন্য পুনরায় অঙ্গীকারবদ্ধ হন।

এই ফোনালাপের পরই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী তাঁর ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার) হ্যান্ডেলে লেখেন, “ভারত ও আমেরিকা দুই মহান গণতন্ত্র, যারা আশা ও ঐক্যের আলোকবর্তিকা হয়ে বিশ্বকে আলোকিত করে চলেছে। আমরা একসঙ্গে দৃঢ়ভাবে দাঁড়াব সন্ত্রাসবাদের সব রূপের বিরুদ্ধে।”

হোয়াইট হাউসে মোদীর প্রশংসা ট্রাম্পের

পরে হোয়াইট হাউসে দীপাবলি উপলক্ষে আয়োজিত এক বিশেষ অনুষ্ঠানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই ফোনালাপের বিস্তারিত তথ্য জানান। তিনি বলেন, “আমি আজ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর সঙ্গে কথা বলেছি। তাঁর সঙ্গে কথা বলতে সবসময়ই আনন্দ লাগে। আমরা বাণিজ্য, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও শান্তি নিয়ে আলোচনা করেছি।”

প্রধানমন্ত্রীর ভূয়সী প্রশংসা করে ট্রাম্প আরও বলেন, “তিনি এক মহান ব্যক্তি, এবং বছরের পর বছর ধরে আমার ঘনিষ্ঠ বন্ধু হয়ে আছেন।” ভারত-পাকিস্তান প্রসঙ্গে ট্রাম্প বলেন, “ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে যুদ্ধ না হওয়ার বিষয়টি উভয় দেশের জন্যই শুভ ইঙ্গিত।”

আলোর জয়: হোয়াইট হাউসে প্রদীপ প্রজ্বলন

দীপাবলির তাৎপর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে ট্রাম্প বলেন, “অল্পক্ষণের মধ্যেই আমরা প্রদীপ প্রজ্বলন করব—যা আলোর জয়, জ্ঞানের জাগরণ এবং শুভ শক্তির প্রতীক। দীপাবলি আমাদের মনে করিয়ে দেয়—অন্ধকারের পরেই আলো আসে, মন্দের পরেই শুভের জয় হয়।”

এই অনুষ্ঠানের পরই হোয়াইট হাউসের প্রধান প্রাঙ্গণে নিজ হাতে প্রদীপ জ্বালিয়ে দীপাবলির সূচনা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। অনুষ্ঠানে এফবিআই ডিরেক্টর কাশ প্যাটেল, জাতীয় গোয়েন্দা দপ্তরের প্রধান তুলসি গ্যাবার্ড, হোয়াইট হাউসের ডেপুটি প্রেস সেক্রেটারি কুশ দেশাই-সহ প্রশাসনের একাধিক শীর্ষ পদস্থ কর্মকর্তা এবং ভারতের রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন ক্বাত্রা ও মার্কিন রাষ্ট্রদূত সার্জিও গর উপস্থিত ছিলেন।

মার্কিন মুলুকে বসবাসকারী বিশিষ্ট ভারতীয় বংশোদ্ভূত উদ্যোক্তাদের উপস্থিতি দুই দেশের বন্ধুত্বের নতুন অধ্যায় এবং দুই গণতন্ত্রের আলোকিত সম্পর্কের এক গভীর সাংস্কৃতিক প্রতিধ্বনি হিসেবে চিহ্নিত হলো।