কৃষি সংক্রান্ত বিপুল তথ্য চুরির জের! অবসরের তিন দিন আগে আইকার ডিরেক্টরকে অপসারিত করল সরকার

ইন্ডিয়ান কাউন্সিল অফ এগ্রিকালচারাল রিসার্চের (ICAR) অধীনস্থ সংস্থা এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিসটিকস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (Agricultural Statistics Research Institute) অধিকর্তাকে অবসরের মাত্র তিন দিন আগে চাকরি থেকে বসিয়ে দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের গোড়ার দিকে ওই প্রতিষ্ঠানের সার্ভার থেকে বিপুল পরিমাণ কৃষি সংক্রান্ত তথ্য ও পরিসংখ্যান চুরি যাওয়ার জেরেই এই কড়া পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে ওয়াকিবহাল মহল জানিয়েছে। একই সঙ্গে ওই প্রতিষ্ঠানের দুজন পদস্থ বিজ্ঞানীকে দিল্লি থেকে অন্যত্র বদলি করা হয়েছে।
জানা গিয়েছে, এবছরের গোড়ায় সাইবার হানার মাধ্যমে এগ্রিকালচারাল স্ট্যাটিস্টিক রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সার্ভার থেকে গুরুত্বপূর্ণ কৃষি গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য হাতিয়ে নেওয়া হয়। প্রাথমিক তদন্তে উঠে আসে, এই তথ্য চুরির ষড়যন্ত্রে প্রতিষ্ঠানের ভেতর থেকেই কেউ কেউ লিপ্ত থাকতে পারে। ঘটনার গুরুত্ব বুঝে কেন্দ্রীয় কৃষিমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান ছয়জন তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। সেই কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী অধিকর্তাকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।
বদলি হওয়া দুই বিজ্ঞানীকে যদিও প্রশাসনিক কারণ দেখিয়ে সরানো হয়েছে, তবুও তদন্তকারীরা তাঁদের দফায় দফায় জিজ্ঞাসাবাদ করেন বলে খবর।
সূত্রের খবর, চুরি যাওয়া তথ্যগুলির মধ্যে ভারতীয় কৃষিবিজ্ঞানীদের বহু মূল্যবান ও দুর্লভ গবেষণা সংক্রান্ত তথ্য ছিল। সংশ্লিষ্ট মহল আশঙ্কা করছে, এই তথ্য কাজে লাগিয়ে অন্য কোনো দেশ বা বহুজাতিক কোম্পানি উন্নত মানের কৃষি বীজ তৈরি করতে পারে, যার ফলে ওই বীজের ওপর ভারতের অধিকার হাতছাড়া হবে। এছাড়া কৃষি উন্নয়ন সংক্রান্ত নানা পরিকল্পনা ও নয়া প্রযুক্তি বাজারে এনে অন্য দেশ ভারতের বিপুল আর্থিক ক্ষতি করতে পারে। এই গবেষণাগুলি চালাতে শত শত কোটি টাকা সরকারি কোষাগার থেকে ব্যয় হয়েছিল।
উল্লেখ্য, ইন্ডিয়ান এগ্রিকালচারাল রিসার্চ ইনস্টিটিউটটি ২০১৬ সালের ডিসেম্বরে চালু করা হয়েছিল। আইকারের বাকি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলির যাবতীয় তথ্য এখানে রাখা হতো যাতে তারা নিজেদের গবেষণায় তা কাজে লাগাতে পারে।
জাতীয় কৃষি গবেষণা পরিষদের মহাপরিচালক ও কৃষি গবেষণা ও শিক্ষা বিভাগের সচিব মঙ্গি লাল জাট বলেন, “আমি সরকারিভাবে বলতে চাই, জাতীয় স্বার্থে ডেটার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আইকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এবছর মার্চে একটি সাইবার আক্রমণের কারণে ডেটা সংক্রান্ত বিষয় মূল্যায়নের জন্য উচ্চ পর্যায়ের কমিটি গঠন করা হয়েছিল। কমিটি তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে এবং সেই অনুযায়ী আইকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগগুলি প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে।”
সরকারি সূত্র জানাচ্ছে, অভ্যন্তরীণ অনুসন্ধান শেষ হওয়ার পর এবার গোয়েন্দা তদন্তের জন্য ঘটনাটি কেন্দ্রীয় তদন্তকারী সংস্থা (CBI)-কে জানানো হতে পারে।