‘ব্ল্যাকমেল করে প্রাণে মারার হুমকি’! পরিযায়ী শ্রমিকের নথি হাতিয়ে বিরাট জালিয়াতির ছক, নদিয়ায় চাঞ্চল্য

নদীয়ার শান্তিপুর থানার ফুলিয়া টাউনশিপ পঞ্চায়েতের কৃষিপল্লী এলাকায় পরিযায়ী শ্রমিকের নামে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার লোন করানোর চেষ্টার অভিযোগে চরম চাঞ্চল্য ছড়িয়েছে। অভিযোগের আঙুল উঠেছে স্থানীয় তৃণমূল নেতা ও প্রাক্তন পঞ্চায়েত সদস্য বুদ্ধিস্বর গোলদার এবং সিপিএম নেতা কৃষ্ণকান্ত দাসের বিরুদ্ধে।

কৃষিপল্লীর বাসিন্দা লক্ষণ দেবনাথ দীর্ঘদিন ধরে ভিনরাজ্যে পরিযায়ী শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। তাঁর দাবি, সম্প্রতি বাড়ি ফেরার পরই স্থানীয় ওই দুই রাজনৈতিক নেতা বিভিন্ন প্রলোভন দেখিয়ে তাঁর আধার, ভোটারসহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ নথি হাতিয়ে নেন।

কোটি টাকার লোনের ছক:

লক্ষণ দেবনাথের অভিযোগ, তাঁর নামে ১ কোটি ৪০ লক্ষ টাকার লোন করানোর পরিকল্পনা করা হয়। তাঁকে বারবার ব্ল্যাকমেল ও টাকার লোভ দেখানো হয়—কখনও ৩০ লক্ষ, কখনও ৪০ লক্ষ টাকার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তিনি রাজি না হওয়ায় তাঁকে প্রাণে মারার হুমকি পর্যন্ত দেওয়া হয় বলে অভিযোগ লক্ষ্মণ দেবনাথের।

আরও অভিযোগ, একটি বেসরকারি ব্যাঙ্কের সহায়তায় তাঁর নামে গোপনে একটি অ্যাকাউন্টও খোলা হয়, যার সঙ্গে ব্যাঙ্কের এক আধিকারিকের যোগসাজশ রয়েছে।

বিষয়টি বুঝতে পেরে লক্ষণ দেবনাথ শান্তিপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন। বর্তমানে তিনি ও তাঁর পরিবার আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন।

রাজনৈতিক চাপানউতোর ও তদন্ত:

যদিও অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা বুদ্ধিস্বর গোলদার ও সিপিএম নেতা কৃষ্ণকান্ত দাস দাবি করেছেন, অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। পাল্টা সিপিএম নেতা লক্ষণ দেবনাথের বিরুদ্ধেই অভিযোগ করেছেন।

এই ঘটনায় রাজনৈতিক অঙ্গনে তুমুল চাপানউতোর শুরু হয়েছে। বিজেপির পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত ও দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানানো হয়েছে। অপরদিকে তৃণমূলের বক্তব্য, তদন্তে কেউ দোষী প্রমাণিত হলে তাঁর বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে। অভিযোগের ভিত্তিতে ইতিমধ্যেই শান্তিপুর থানার পুলিশ তদন্ত শুরু করেছে।