যুব-বিক্ষোভের জের! প্রেসিডেন্টকে সরিয়ে কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিয়ার শপথ: কি বলছে জাতিসংঘ-আফ্রিকা ইউনিয়ন?

মাদাগাস্কারের রাজনীতিতে বড় পালাবদল! যুব-নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের মুখে প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট অ্যান্দ্রে রাজোয়েলিনা ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সেনাপ্রধান কর্নেল মাইকেল র্যান্ড্রিয়ানিয়া দেশের প্রেসিডেন্ট হিসেবে শপথ নিয়েছেন।
শুক্রবার (অক্টোবর ১৮, ২০২৫) রাজধানী আন্তানানারিভোতে এই শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। উল্লাস, রণবাদ্য ও উচ্চকিত তরবারির মধ্যে দিয়ে সম্পন্ন হওয়া এই শপথ অনুষ্ঠান দেশের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত দেয়।
কর্নেল র্যান্ড্রিয়ানিয়া একটি সামরিক অভ্যুত্থানের নেতৃত্ব দেওয়ার কয়েক দিন পর ক্ষমতা গ্রহণ করলেন, যা মূলত প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট রাজোয়েলিনার বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ থেকে শুরু হয়েছিল। পার্লামেন্টের মাধ্যমে ক্ষমতাচ্যুত হয়ে রাজোয়েলিনা বর্তমানে বিদেশে অবস্থান করছেন।
আন্তর্জাতিক মহলের তীব্র নিন্দা, সেনাশাসনের ঘোষণা
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস এবং আফ্রিকান ইউনিয়ন (AU) এই ক্ষমতা দখলকে ‘অভ্যুত্থান’ বলে তীব্র নিন্দা করেছে। তবে মাদাগাস্কারের উচ্চ সাংবিধানিক আদালত দ্রুত সামরিক বাহিনীর এই পদক্ষেপকে বৈধতা দিয়েছে। এর জেরে আফ্রিকান ইউনিয়ন মাদাগাস্কারের সদস্যপদ স্থগিত করেছে।
নতুন প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করেছেন যে, একটি সামরিক-নেতৃত্বাধীন কমিটি আগামী দুই বছর পর্যন্ত একটি অন্তর্বর্তী সরকারের সঙ্গে দেশ শাসন করবে। এরপর নতুন নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
বিনিয়োগকারীদের জন্য উদ্বেগ
উইটস ইউনিভার্সিটির ফ্রাঙ্ক লেকাবা সহ বিশেষজ্ঞরা এই সামরিক হস্তক্ষেপে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তাঁদের মতে, সামরিক বাহিনীর এই ধরনের সংশ্লিষ্টতা দেশের গণতান্ত্রিক উত্তরণকে আরও জটিল করে তুলবে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীরা নিরুৎসাহিত হতে পারে, যা দেশের অর্থনীতি পুনরুদ্ধারকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করতে পারে।
তবে, সামরিক নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার কীভাবে কাজ করে, সেদিকে সতর্ক নজর রাখছেন আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা।