‘ওনার দিকে যারা হাত তুলছেন, মনে রাখবেন ফণী আছে’! চুঁচুড়ার বিধায়ককে চরম হুঁশিয়ারি দিলেন সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়?

আবারও প্রকাশ্যে এল তৃণমূলের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। হুগলির চুঁচুড়ার বাণী মন্দির স্কুলের স্মার্ট ক্লাসরুম বিতর্ক সাময়িক মিটে গেলেও, শুক্রবার সাংসদের বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে বিধায়ক অসিত মজুমদারের অনুপস্থিতি সেই দ্বন্দ্বকেই আরও স্পষ্ট করে দিল।

শুক্রবার চুঁচুড়া পুরসভার শহর সভাপতির তরফে আয়োজিত এই বিজয়া সম্মিলনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন হুগলির সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। সেই সঙ্গে সপ্তগ্রাম বিধায়ক তপন দাসগুপ্ত, চেয়ারম্যান অমিত রায় সহ একাধিক নেতা উপস্থিত থাকলেও, দেখা মেলেনি চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারের। এই অনুষ্ঠানের প্রচারের ব্যানারে বা তোরণেও তাঁর কোনো ছবি দেখা যায়নি।

হুগলি লোকসভা কেন্দ্রের ৬টি বিধানসভায় সমস্যা না হলেও, চুঁচুড়া নিয়ে সমস্যার কথা সাংসদ রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় আগেই জানিয়েছিলেন। তাঁর একাধিক অনুষ্ঠানে অন্যান্য বিধায়ক ও নেতারা উপস্থিত থাকলেও, চুঁচুড়ার বিধায়ক অসিত মজুমদারকে দেখা যায় না। সাংসদ বহুবার এই অভিযোগ করেছেন। শুক্রবারও একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটল।

অন্যদিকে, বিধায়ক অসিত মজুমদারের দাবি, সাংসদের সঙ্গে তাঁর কোনো দ্বন্দ্ব নেই। তবে, অন্য কাজ থাকায় তিনি অনুষ্ঠানে যেতে পারেননি। একইসঙ্গে শহরের বিভিন্ন এলাকায় বাঁধা তোরণে তাঁর ছবি না-থাকার বিষয়টি নিয়েও তিনি কথা তুলেছেন।

অনুষ্ঠানে তৃণমূলের চুঁচুড়া শহর সভাপতি শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায়ের ভূয়সী প্রশংসা করেন রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়। দলের অন্দরে জল্পনা রয়েছে যে রচনার জন্যই শ্যামা প্রসাদ মুখোপাধ্যায় শহর সভাপতি হয়েছেন। এই জল্পনা রচনার কানেও গিয়েছে। তাই এদিন সভা মঞ্চ থেকে রচনা স্পষ্ট করে দেন, শ্যামা প্রসাদ নিজের দমে সভাপতি হয়েছেন।

তিনি বলেন, “ওনার সততা, কর্মদক্ষতা ওনাতে এই জায়গায় নিয়ে এসেছে। রচনা বন্দ্যোপাধ্যায় কেউ না, একজন ক্ষুদ্র মানুষ। ওনার নামের সঙ্গে ফণী আছে। ছোবল মারতে সময় লাগবে না। ওনার দিকে যারা হাত তুলছেন, মনে রাখবেন ওনার হাতে ফণী আছে।” রচনার এই মন্তব্য রাজনৈতিক মহলে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

এদিকে এই ঘটনাকে তীব্র কটাক্ষ করেছেন বিজেপির জেলার সাধারণ সম্পাদক সুরেশ সাউ। তিনি বলেন, “হুগলি সাংসদ ও চুঁচুড়া বিধায়কের সাপে-নেউলের সম্পর্ক। কেউ কারও অনুষ্ঠানে যান না। এদের গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব কারও অজানা নয়। বিধানসভা ভোটে এর জবাব মানুষ দিয়ে দেবে।” ২০২৬ সালের নির্বাচনে চুঁচুড়ায় কে প্রার্থী হবেন—এই প্রশ্ন নিয়ে তৃণমূলের অন্দরে জল ঘোলা হওয়াতেই সাংসদ ও বিধায়কের মধ্যে দ্বন্দ্ব প্রকট হচ্ছে বলে মনে করছেন রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা।