জোট নিয়ে ফের বাম-আইএসএফ সংঘাত! সুজন চক্রবর্তীর আহ্বান ফিরিয়ে এবার বিমান বসুকে নিশানা করলেন নওশাদ সিদ্দিকি

আর কয়েক মাস পরেই বাংলার মসনদ দখলের লড়াই। শাসক ও বিরোধী সব দলই যখন নিজেদের ঘর গোছাতে ব্যস্ত, তখনও বামফ্রন্ট শিবিরে জোট নিয়ে চলছে চরম জল্পনা-কল্পনা। এই আবহেই ভাঙড়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে আইএসএফ-কে (ISF) জোটের আহ্বান জানিয়েছেন সিপিএম নেতা সুজন চক্রবর্তী। তবে তাঁর সেই আহ্বানে সাড়া না দিয়ে এবার উল্টে বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে নিশানা করলেন আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকি।

আহ্বানের জবাবে পাল্টা পরামর্শ:

ভাঙড়ের মাটিতে দাঁড়িয়ে সুজন চক্রবর্তী বলেন, “পশ্চিমবাংলার সকলকে বিজেপি ও তৃণমূলের বিরুদ্ধে একজোট করানো আমাদের আগ্রহ। কিন্তু বাকি সকলে একজোট থাকবে কি না, তা তাঁদের মনোভাবের ব্যাপার আছে। আইএসএফ প্রার্থী দেবে কোথায় কোথায়, নিজের নিজের মতো করে প্রার্থী ঘোষণা করছে। বিজেপি তৃণমূলের বিরুদ্ধে সবাই একজোট হোন।”

তবে সুজনের এই আহ্বান সত্ত্বেও কোনও জবাব দেননি নওশাদ। আইএসএফ বিধায়কের পাল্টা দাবি, জোট চেয়ে তিনি গত অগস্টেই বামফ্রন্ট চেয়ারম্যান বিমান বসুকে চিঠি দিয়েছিলেন, কিন্তু তার কোনও জবাব পাননি। তিনি সুজনকেই পরামর্শ দেন, “জোট চেয়ে বিমান বসুকে আমি চিঠি দিয়েছি। কিন্তু তার জবাব পাইনি। সুজনবাবুকে বলুন আগে বিমান বসুকে জবাব দিতে।”

জানা গিয়েছে, অগাস্টে পাঠানো চিঠিতে নওশাদ জোটের জন্য আর সময় নষ্ট না করে প্রক্রিয়া শুরু করার কথা বলেছিলেন। দুর্গাপুজোর পরে এ বিষয়ে কথা হবে বলে নওশাদকে আশ্বাস দিয়েছিলেন বিমান বসু। কিন্তু সেই বিষয়ে উপযুক্ত বার্তা না আসায় আইএসএফ শিবির বিরক্ত।

জোট নিয়ে জলঘোলা:

বাম ও আইএসএফ-এর মধ্যে জোট নিয়ে জলঘোলা নতুন কিছু নয়। ২০২৪-এর লোকসভা ভোটে বামেদের ছাড়াই আইএসএফ একাই লড়েছিল। সেই সময় বামেদের ঘাড়েই দোষ চাপিয়েছিলেন নওশাদ। মুর্শিদাবাদে আইএসএফ প্রার্থীর নাম ঘোষণার পরও সিপিএম সেখানে প্রার্থী দেওয়ায় সেই জট আরও বাড়ে। ডায়মন্ড হারবারের ক্ষেত্রেও আইএসএফ একা প্রার্থী দিয়েছিল।

প্রসঙ্গত, ২০২১ সালেই ব্রিগেডের মঞ্চে বাম, কংগ্রেস ও আইএসএফ প্রথম জোট করেছিল, যার নাম দেওয়া হয়েছিল ‘সংযুক্ত মোর্চা’। কিন্তু এবার সেই জোটের ভবিষ্যৎ নিয়েই তীব্র ধন্দ তৈরি হয়েছে।