‘বিয়ে করব, কিন্তু সেই মহিলা যেন বাড়িতে বসে না থাকেন!’ রাজনীতি, অভিনয় আর ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে বিস্ফোরক রুদ্রনীল

অভিনেতা হিসেবে সুপরিচিত রুদ্রনীল ঘোষ (Rudranil Ghosh) এখন রাজনীতির ময়দানেও নিজের দক্ষতা প্রমাণ করতে ব্যস্ত। বারবার দলবদলের অভিযোগ থাকলেও, তাঁর কথায় জনসেবার কাজ ছাড়ার প্রশ্নই নেই। বাংলা চলচ্চিত্র জগতে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার আগে কঠিন সংগ্রাম করতে হয়েছে অভিনেতাকে। সম্প্রতি ইটিভি ভারত লাইফস্টাইলকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নিজের কেরিয়ার, রাজনীতি এবং ব্যক্তিগত জীবনের বহু অজানা কথা তুলে ধরলেন রুদ্রনীল।
অভিনয় ও রাজনীতি একসঙ্গে কীভাবে সম্ভব?
অভিনয় এবং রাজনীতি, দুটি ভিন্ন পেশাকে একসঙ্গে সামলানো প্রসঙ্গে রুদ্রনীল জানান, এটা খুবই সাধারণ। তাঁর মতে, প্রতিটি পেশার মানুষ যেমন কাজের পাশাপাশি সংসার সামলান, তেমনই তিনি তাঁর কাজের বাইরে যে সময় পান, তা মানুষের জন্য ব্যয় করতে চান। তিনি বলেন, “মানুষের জন্য কেউ কাজ করার ফলে পথে নামেন, তখন তাঁরা রাজনীতি করেন।” শ্যামাপ্রসাদ মুখোপাধ্যায় (কলকাতা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাইস চ্যান্সেলর), বিধানচন্দ্র রায় (চিকিৎসক)-এর মতো ব্যক্তিত্বরা যেমন জনসেবা করেছেন, তেমনই উৎপল দত্ত, সৌমিত্র চট্টোপাধ্যায়ের মতো অভিনেতারাও এই কাজ করে এসেছেন। তাই এই দুই পেশা একসঙ্গে সামলানো তাঁর কাছে কোনও অতিরিক্ত চাপ মনে হয় না। “আমি ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুমাই, বাকি সময় কাজ করি। এগুলি ভালোবাসা থেকে হয়,” বলেন রুদ্রনীল।
ভোটের সময় শুটিং ম্যানেজ করা?
নির্বাচনের প্রাক্কালে বা প্রচারের সময় শুটিং ম্যানেজ করা কিছুটা কঠিন হলেও রুদ্রনীল তা সামলে নেন। তিনি জানান, গত বছর ভোটের প্রচারে নামার জন্য তাঁকে একটি সিনেমার কাজ ছাড়তে হয়েছিল। তাঁর বক্তব্য, “সিনেমার জন্য আমার বছরে ১১ মাস থাকে, একটা মাস যদি আমার অন্য কাজকে দেওয়া হয়, তাহলে অসুবিধা হওয়ার কথা নয়। আমার খুবই স্ট্রাগল লাইফের মধ্যে দিয়ে বড় হওয়া। আমার অসুবিধা হয় না।”
‘লাল-সবুজ-গেরুয়া’! বারবার দলবদলের কারণ কী?
প্রথমে বাম, পরে তৃণমূল এবং বর্তমানে বিজেপি—এই বারবার দলবদল নিয়ে প্রশ্নের জবাবে রুদ্রনীল ঘোষ বলেন, “আমাকে এই প্রশ্নটা করা হয় কারণ আমার নামের পাশে একটা নীল আছে। আমার নাম যদি রতনলাল হতো, তাহলে হয়তো করতো না?” তিনি মনে করেন, পশ্চিমবঙ্গের সরকার কোনও রাজনৈতিক ভোটে আসে না, বরং সাধারণ মানুষ কোনও নির্দিষ্ট রঙকে বিশ্বাস করতে না পেরে নতুন কোনও রঙকে বেছে নেন। তাই কংগ্রেস, সিপিআইএম, তারপর তৃণমূল এবং ২০১৯-এর পরে বিজেপির প্রতি মানুষের ভোট দেওয়া—এটাই পরিবর্তনের ধারা। ভুলকে আঁকড়ে ধরে থাকাটাকেই ‘উন্মত্ততা’ বলে মনে করেন তিনি।
অভিনেতা না হলে নিজেকে কীভাবে দেখতেন?
অভিনেতা বা রাজনীতিবিদ না হলে রুদ্রনীল নিজেকে একজন চিত্রশিল্পী হিসেবে দেখতেন। তিনি জানান, ছবি আঁকার জন্য অভিনয়ে পাওয়া পুরস্কারের চেয়ে কম পুরস্কার পাননি। ছবি আঁকা থেকেই মানুষের চেহারা আঁকা এবং তাদের স্বভাবের উপর আকর্ষণ তৈরি হয়, যা তাঁকে থিয়েটারে টেনে আনে। থিয়েটারের পর টেলিভিশন জগতে আসেন, যেখানে প্রথমে জুনিয়র আর্টিস্ট হিসেবে মাত্র ১৫০ টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন।
গায়ের রঙ ও উচ্চতা নিয়ে অপমান
ইন্ডাস্ট্রিতে তাঁর স্ট্রাগল পিরিয়ডের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে রুদ্রনীল বলেন, একসময় তাঁকে গায়ের রঙ ও উচ্চতা নিয়ে অপমানিত হতে হয়েছিল। শুটিং ফ্লোরে ফর্সা ও লম্বা অভিনেতাদের বেশি সম্মান করা হতো। কিন্তু আজ যাঁরা অপমান করতেন, তাঁরাই হাসিমুখে কথা বলেন। তাঁর মন্তব্য, “এটাই জীবন। সেইসময় হয়তো একটু কষ্ট পেয়েছি।” অভিনেতা হওয়ার আগে তিনি একটি চ্যানেলে গ্রাফিক্স, ভয়েস ওভার এবং স্ক্রিপ্টিং-এর কাজও করতেন।
কেমন জীবনসঙ্গিনী চান?
ভবিষ্যৎ পরিকল্পনায় ব্যক্তিগত জীবন সম্পর্কে রুদ্রনীল বলেন, তিনি অবশ্যই বিয়ে করবেন, তবে তাঁর কিছু শর্ত আছে। অভিনেতা চান, “সেই মহিলা যেন বাড়িতে বসে থাকা কেউ না-হন। কোনও একটা কাজে যাতে যুক্ত থাকেন। স্ট্রাগেলের যে যন্ত্রণা, সেটা যেন তিনি বুঝতে পারেন।” তিনি ঝুটঝামেলা এবং অশান্তি এড়িয়ে চলতেই পছন্দ করেন।