ক্যানসারকে গোড়াতেই শেষ! বিজ্ঞানীরা বানালেন ‘সুপার ভ্যাকসিন’, ইঁদুরের শরীরে মিলল অবিশ্বাস্য সাফল্য

ক্যানসার প্রতিরোধের ক্ষেত্রে একটি যুগান্তকারী সাফল্যের দাবি করেছেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একদল গবেষক। ন্যানোপার্টিকেল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তৈরি একটি পরীক্ষামূলক টিকা (জ্যাব) ভবিষ্যতে একাধিক মারাত্মক ক্যানসারকে গোড়াতেই প্রতিরোধ করতে সক্ষম হতে পারে।

ইউনিভার্সিটি অফ ম্যাসাচুসেটস আমহার্স্টের (University of Massachusetts Amherst) বিজ্ঞানীরা এই ‘সুপার ভ্যাকসিন’ তৈরি করেছেন। ইঁদুরের ওপর প্রাথমিক পরীক্ষায় দেখা গেছে, এই টিকা কেবল টিউমারকে সঙ্কুচিতই করে না, বরং নতুন করে টিউমার তৈরি হওয়াও আটকে দেয়। বিশেষত, মেলানোমা (Melanoma), প্যানক্রিয়াটিক ক্যানসার (Pancreatic Cancer) এবং ট্রিপল-নেগেটিভ ব্রেস্ট ক্যানসার (Triple-Negative Breast Cancer)-এর মতো তিনটি আক্রমণাত্মক ক্যানসারের বিরুদ্ধে এই টিকার কার্যকারিতা দেখা গেছে।

অবিশ্বাস্য সাফল্য ইঁদুরের ওপর:

Cell Reports Medicine জার্নালে প্রকাশিত এই গবেষণা অনুযায়ী, ক্যানসারের প্রকারভেদে ৬৯% থেকে ৮৮% টিকা দেওয়া ইঁদুর টিউমার-মুক্ত ছিল।

নেতৃস্থানীয় গবেষক প্রফেসর প্রভানি আতুকোরালে জানিয়েছেন, তাঁদের লক্ষ্য হলো শরীরের নিজস্ব রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে এমনভাবে প্রশিক্ষণ দেওয়া, যাতে ক্যানসার কোষ ছড়িয়ে পড়ার আগেই সেগুলি চিহ্নিত করে ধ্বংস করতে পারে।

একটি পরীক্ষায়, টিকাটি মেলানোমা পেপটাইডসের সঙ্গে যুক্ত করে শরীরের প্রধান প্রতিরক্ষামূলক কোষ ‘টি-সেল’ (T-cells)-গুলিকে সক্রিয় করে তোলে। পরবর্তীকালে ক্যানসারের সংস্পর্শে এলেও, টিকা দেওয়া ৮০ শতাংশ ইঁদুর ২৫০ দিনেরও বেশি সময় ধরে টিউমার-মুক্ত ছিল। অন্যদিকে, টিকা না-নেওয়া ইঁদুরগুলি দ্রুত টিউমারে আক্রান্ত হয় এবং এক মাসের বেশি বাঁচেনি।

টিকার বিশেষত্ব ও কাজ:

সাধারণ টিকার মতোই এই ভ্যাকসিনে অ্যান্টিজেন (রোগের নকল ছোট অংশ) এবং অ্যাডজুভ্যান্ট (যা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়) ব্যবহার করা হয়েছে। তবে UMass গবেষক দল এখানে একটি লিপিড ন্যানোপার্টিকেল ‘সুপার অ্যাডজুভ্যান্ট’ ব্যবহার করেছেন। এই বিশেষ প্রযুক্তি একইসঙ্গে দুটি ইমিউন ট্রিগার সরবরাহ করতে সক্ষম।

গবেষকরা আরও দেখেছেন যে এই জ্যাব মেটাস্ট্যাসিস বা ক্যানসারকে শরীরের অন্য অঙ্গে ছড়িয়ে পড়াও সফলভাবে আটকাতে পারে। টিকা নেওয়া কোনও ইঁদুরের ফুসফুসে সেকেন্ডারি টিউমার তৈরি হয়নি, অথচ টিকা না-নেওয়া প্রতিটি ইঁদুরের ক্ষেত্রেই এটি ঘটেছে।

এই গবেষণার সহ-লেখক ড. গ্রিফিন কেন জানিয়েছেন, টিকার সাফল্যের মূল কারণ হলো টিউমার-নির্দিষ্ট টি-সেলগুলিকে কার্যকরভাবে সচল করে তোলা।

যদিও মানুষের ওপর এই টিকার ট্রায়াল এখনও শুরু হয়নি, তবে এই ফলাফলগুলি ক্যানসার-প্রতিরোধী ভ্যাকসিনের একটি নতুন দিগন্ত উন্মোচন করছে। একই ধরনের mRNA-ভিত্তিক পদ্ধতিগুলি ইতিমধ্যেই ফুসফুস, অন্ত্র এবং ত্বকের ক্যানসারের জন্য যুক্তরাজ্যে পরীক্ষা করা হচ্ছে। সুরক্ষা ও কার্যকারিতা প্রমাণিত হলে, এই ‘সুপার ভ্যাকসিন’ বিশ্বের অন্যতম মারাত্মক রোগ প্রতিরোধের ক্ষেত্রে এক নতুন মোড় আনতে পারে।