অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর’, ভারত-রুশ জ্বালানি সহযোগিতা জারি থাকবে, মার্কিন চাপ উড়িয়ে আত্মবিশ্বাসী রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী

ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে—মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের এই দাবিকে শুধু নয়াদিল্লিই নয়, এবার সরাসরি প্রত্যাখ্যান করল মস্কোও। ট্রাম্পের মন্তব্যের পর বৃহস্পতিবার রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রী তথা জ্বালানি খাতের দেখভালকারী আলেকজান্ডার নোভাক ভারত-রুশ জ্বালানি সহযোগিতা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে পূর্ণ আত্মবিশ্বাস ব্যক্ত করেছেন।

রাশিয়ার উপ-প্রধানমন্ত্রীর মন্তব্য:

ইন্টারফ্যাক্স সংবাদ সংস্থাকে আলেকজান্ডার নোভাক বলেন, “আমরা আমাদের বন্ধুত্বপূর্ণ অংশীদারদের (ভারত) সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত রাখছি। আমাদের জ্বালানি সম্পদের চাহিদা রয়েছে। এটি অর্থনৈতিকভাবে কার্যকর।” তিনি আরও বলেন,

“আমাদের অংশীদাররা ঘোষণা করছে যে, কেউ তাদের উপর হুকুম দিতে পারবে না এবং তারা তাদের নিজস্ব পথ বেছে নেবে।”

ট্রাম্প দাবি করেছিলেন যে, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে আশ্বাস দিয়েছেন যে ভারত রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল কেনা বন্ধ করবে। সেই দাবির জবাবেই নোভাক এই মন্তব্য করেছেন। ইন্টারফ্যাক্সের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালের প্রথম সাত মাসে রাশিয়ার অপরিশোধিত তেল রফতানির পরিমাণ ছিল ৮৭.৫ মিলিয়ন টন, যা ভারতের মোট আমদানির ৩৬.৪ শতাংশ।

ভারতের স্পষ্ট প্রতিক্রিয়া:

এদিকে, নয়াদিল্লিও এই বিষয়ে নিজেদের অবস্থান আরও একবার স্পষ্ট করেছে। বিদেশ মন্ত্রকের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল এক বিবৃতিতে বলেছেন,

“অস্থিতিশীল জ্বালানি পরিস্থিতিতে ভারতীয় গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষা করা সর্বদা আমাদের অগ্রাধিকার। আমাদের আমদানি নীতি সম্পূর্ণরূপে এই উদ্দেশ্যে পরিচালিত।”

তিনি জানান, ভারতের জ্বালানি নীতির দুটি উদ্দেশ্য: জ্বালানির স্থিতিশীল দাম এবং নিরাপদ সরবরাহ। বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্করও পূর্বে পশ্চিমা দেশগুলির দ্বৈত নীতির দিকে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন যে, ভারত শুধুমাত্র তার নাগরিকদের জন্য সর্বোত্তম চুক্তিতে পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।

তবে বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে যে, ভারত আমেরিকার সঙ্গেও বহু বছর ধরে জ্বালানি ক্রয় বাড়ানোর চেষ্টা করছে এবং বর্তমান প্রশাসনও ভারতের সঙ্গে সহযোগিতা গভীর করার আগ্রহ প্রকাশ করেছে।