জাতগণনা বর্জন করলেন নারায়ণ মূর্তি ও সুধা মূর্তি, ‘আমরা অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত নই’, জানালেন সরকারকে

কর্ণাটকে মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া সরকারের উদ্যোগে শুরু হওয়া জাতগণনা (সমাজ ও শিক্ষা সমীক্ষা) নিয়ে যখন জোর বিতর্ক চলছে, ঠিক তখনই এই সমীক্ষায় অংশ নিতে অস্বীকার করলেন ইনফোসিস প্রতিষ্ঠাতা নারায়ণ মূর্তি ও তাঁর স্ত্রী, সমাজসেবী তথা রাজ্যসভার সাংসদ সুধা মূর্তি।
সূত্রের খবর, কয়েক দিন আগে সমীক্ষার গণনাকারীরা মূর্তি দম্পতির বাসভবনে পৌঁছালে তাঁরা সমীক্ষায় অংশ নিতে চান না বলে জানিয়ে দেন।
লিখিতভাবে অস্বীকৃতি:
পরে সুধা মূর্তি কর্ণাটক রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কমিশনকে একটি লিখিত চিঠি দিয়ে তাঁর অস্বীকৃতির কথা জানান। কমিশনের নির্ধারিত প্রোফর্মায় সুধা মূর্তি লেখেন: “আমার কিছু ব্যক্তিগত কারণে, আমি কর্ণাটক রাজ্য অনগ্রসর শ্রেণি কমিশন কর্তৃক পরিচালিত সমাজ ও শিক্ষা সমীক্ষায় তথ্য প্রদান করতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছি।”
তবে, সূত্রের দাবি, সুধা মূর্তি ওই ফর্মের নিচে হাতে লেখা একটি কান্নাড বার্তাও যোগ করেন, যেখানে তিনি স্পষ্টভাবে লেখেন: “আমরা কোনও অনগ্রসর শ্রেণির অন্তর্গত নই। তাই অনগ্রসর গোষ্ঠীর জন্য পরিচালিত এই সরকারি সমীক্ষায় আমরা অংশ নেব না।”
সমীক্ষার গুরুত্ব ও বিতর্ক:
২২ সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হওয়া এই সমীক্ষাকে কর্ণাটক সরকার রাজ্যের সামাজিক ও অর্থনৈতিক বৈষম্য নিরূপণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করছে। মুখ্যমন্ত্রী সিদ্দারামাইয়া ও উপ-মুখ্যমন্ত্রী ডি. কে. শিবকুমার জানিয়েছেন, এই ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে ভবিষ্যতে অনগ্রসর শ্রেণির জন্য নীতি ও সংরক্ষণ ব্যবস্থার পুনর্বিবেচনা করা হবে।
কিন্তু মূর্তি দম্পতির এই অস্বীকৃতিকে অনেকেই তাঁদের ব্যক্তিগত ও নৈতিক অবস্থান হিসেবে দেখছেন। তাঁদের মতে, তাঁরা সমাজে যে অবস্থানে পৌঁছেছেন, তা মেধা ও পরিশ্রমের ভিত্তিতেই, কোনো জাতিভিত্তিক সুবিধার কারণে নয়। অন্যদিকে, এই সমীক্ষাকে অনেকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলেও দাবি করছেন।
এই সমীক্ষার জন্য রাজ্য সরকার ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত রাজ্যের সব স্কুলে ছুটি ঘোষণা করেছে, যাতে শিক্ষকরা গণনাকারী হিসেবে অংশ নিতে পারেন।