৬ মাস পর ফাঁস ‘সুখী সংসারের’ ভয়ঙ্কর রহস্য! স্ত্রীকে তিলে তিলে মেরেছেন চিকিৎসক স্বামী, কীভাবে ধরা পড়লেন জেনারেল সার্জন?

সুখী চিকিৎসক দম্পতির আপাতদৃষ্টিতে সাজানো সংসার। কিন্তু ৬ মাস আগে ডার্মাটোলজিস্ট ডঃ কৃতিকা এম রেড্ডির (২৯) হঠাৎ মৃত্যু ঘিরে এবার সামনে এল এক ভয়ঙ্কর সত্য। প্রাথমিক ভাবে স্বাভাবিক মৃত্যু বলে মনে করা হলেও ময়নাতদন্ত এবং ফরেন্সিক রিপোর্টে উঠে এল চাঞ্চল্যকর তথ্য—স্ত্রীকে তিলে তিলে খুন করেছেন পেশায় জেনারেল সার্জন স্বামী ডঃ মহেন্দ্র রেড্ডি।

‘গ্যাস্ট্রিকের’ নামে বিষাক্ত ওষুধ!
চলতি বছরের ২৪ এপ্রিল ডঃ কৃতিকার নিথর দেহ উদ্ধার হয়। তাঁর স্বামী মহেন্দ্র রেড্ডি সেই সময় পুলিশকে জানান, স্ত্রীর হজমের সমস্যা ও নিম্ন রক্তচাপজনিত জটিলতার কারণেই মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু ফরেন্সিক ল্যাবরেটরি রিপোর্টে দেখা যায়, কৃতিকার শরীরে ‘প্রোপোফল’ নামক একটি অ্যানেস্থাটিক ড্রাগ (নিশ্চেতক ওষুধ) অতিরিক্ত মাত্রায় পাওয়া গিয়েছে। অতিরিক্ত মাত্রায় এই ওষুধ প্রয়োগে হার্ট অ্যাটাক থেকে মৃত্যুও হতে পারে।

এই রিপোর্ট হাতে আসার পরই নড়েচড়ে বসে পুলিশ। মৃতার বাবা জামাই মহেন্দ্র রেড্ডির বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ দায়ের করেন। গত ১৪ অক্টোবর অভিযুক্ত চিকিৎসককে গ্রেফতার করা হয়।

জেরায় জানা গিয়েছে, মহেন্দ্র রেড্ডি তাঁর স্ত্রীকে গ্যাস্ট্রিক সমস্যার অজুহাতে টানা তিনদিন ধরে ‘আইভি ইনফিউশন’ (স্যালাইন) দিচ্ছিলেন। ২৩ এপ্রিল কৃতিকা অজ্ঞান হয়ে গেলে তাঁকে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়। হাসপাতাল ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিলেও অভিযুক্ত স্বামী মাত্র ৩৬ ঘণ্টা পরই জোর করে স্ত্রীকে ছাড়িয়ে বাড়িতে নিয়ে আসেন। এর কিছুক্ষণ পরই কৃতিকার মৃত্যু হয়।

তদন্তে আরও জানা যায়, মহেন্দ্র রেড্ডি স্ত্রীর দেহ ময়নাতদন্তও করতে দিতে চাইছিলেন না। ফরেন্সিক রিপোর্ট পাওয়ার পরেই তাঁর বিরুদ্ধে খুনের মামলা রুজু হয়।

পুলিশের প্রাথমিক সন্দেহ, ব্যক্তিগত ও আর্থিক কারণেই স্ত্রীকে খুন করেছেন ওই চিকিৎসক। মহেন্দ্র তাঁর স্ত্রীকে একটি প্রাইভেট হাসপাতাল খোলার জন্য টাকার চাপ দিচ্ছিলেন, যদিও নিহত যুবতীর পরিবার ইতিমধ্যেই ক্লিনিক খোলার জন্য টাকা দিয়েছিল।

নিহত যুবতীর পরিবার অভিযুক্তের বিরুদ্ধে বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক, পণ চেয়ে হেনস্থা ও গার্হস্থ্য হিংসার মতো গুরুতর অভিযোগও দায়ের করেছেন। তদন্তে আরও উঠে এসেছে যে, অভিযুক্ত মহেন্দ্র রেড্ডি ও তাঁর যমজ ভাইয়ের বিরুদ্ধে ২০১৮ সালে প্রতারণা ও অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ছিল, যা কৃতিকার সঙ্গে বিয়ের সময় গোপন করা হয়েছিল। এই চাঞ্চল্যকর ঘটনা বেঙ্গালুরুর চিকিৎসক মহল ও সাধারণ মানুষের মধ্যে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছে।