দুর্গাপুজোর মতোই কার্নিভাল-ছাড় চাই! কালীপুজোর মঞ্চে ‘বড় দাবি’ উদ্যোক্তাদের, নগরপাল কী বার্তা দিলেন?

দুর্গাপুজোর ধাঁচে কালীপুজোর আয়োজন এবং বিদ্যুৎ বিলে ছাড়—এমনই একগুচ্ছ দাবি উঠল কলকাতা পুলিশের সমন্বয় বৈঠকে। বুধবার সন্ধ্যায় ধনধান্য স্টেডিয়ামে শহর ও সংলগ্ন এলাকার কালীপুজো উদ্যোক্তাদের সঙ্গে সমন্বয় বৈঠকে বসে কলকাতা পুলিশ, যেখানে নগরপাল মনোজ ভর্মা পুজো কমিটিগুলির কাছে বাজি ও ফানুস নিয়ে কঠোর সতর্কবার্তা দিয়েছেন। বৈঠকে পুরসভা, দমকল-সহ একাধিক প্রশাসনিক বিভাগের কর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

আলোচনার কেন্দ্রে ছিল দুর্গাপুজোর মতো কালীপুজোর ক্ষেত্রেও একই ধরনের সুযোগ-সুবিধা চালু করার দাবি। এক পুজো উদ্যোক্তা আশিস রায় বৈঠকের পর জানান, “কলকাতা পুলিশের আমন্ত্রণে এসে আমরা নগরপালকে জানিয়েছি, যদি দুর্গাপূজার ক্ষেত্রে অনুদান, কার্নিভাল এবং বিদ্যুৎ বিলে ছাড় পাওয়া যায়, তবে কালীপুজোর ক্ষেত্রে তা নয় কেন? আমরা অনুরোধ করেছি, যদি আমাদের জন্য বিদ্যুৎ বিলে ছাড় ও কার্নিভালের ব্যবস্থা করা যায়, তবে তা অত্যন্ত সহায়ক হবে।” সূত্রের খবর, চলতি বছর শহরে মোট ২ হাজার ৮০০টি কালীপুজোর অনুমোদন দিয়েছে প্রশাসন।

উদ্যোক্তাদের দাবির জবাবে নগরপাল মনোজ ভর্মা নিরাপত্তার দিকগুলিতে বিশেষ জোর দেন। তিনি স্পষ্ট জানান, গ্রিন বাজি পোড়ানোর ক্ষেত্রে ছাড় থাকলেও প্রশাসন কর্তৃক নিষিদ্ধ ঘোষিত বাজি কোনও ভাবেই বিক্রি বা কেনা যাবে না।

ফানুস নিয়েও কঠোর সতর্কবার্তা দেন মনোজ ভর্মা। তিনি বলেন, “ফানুস নিষিদ্ধ বাজির তালিকাভুক্ত। এই নিয়ে দমকল দফতরের ২০১৯ সালের একটি বিজ্ঞপ্তিও রয়েছে। প্রতিটি থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, ফানুস বিক্রি বা কেনার ঘটনা দেখলে তারা যেন প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করেন।” পাশাপাশি, বহুতল ও আবাসনগুলিতে সমস্ত নিরাপত্তা সুনিশ্চিত করে বাজি ফাটানোর আর্জি জানান তিনি।

প্রতি বছরের মতো এবারও কালী প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিয়েছে কলকাতা পুলিশ। নগরপাল জানিয়েছেন, আগামী ২১, ২২ ও ২৩ অক্টোবর কালী প্রতিমা বিসর্জনের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে। এছাড়া, প্রতিমা নিরঞ্জনের সময় শব্দদূষণ কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ডিজে সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এই নির্দেশগুলি মেনে চললে কালীপুজোও দুর্গাপুজোর মতোই সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন হবে বলে আশাবাদী প্রশাসন।