ইডি’র হানার পরেও বন্ধ হল না বালি পাচার! মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশে ‘বুড়ো আঙুল’ দেখিয়ে উত্তরবঙ্গে দেদার বালি তোলা, কেন নীরব প্রশাসন?

বৃহস্পতিবার সকাল থেকে এনফোর্সমেন্ট ডিরেক্টরেট (ED)-এর বালি পাচার সংক্রান্ত তল্লাশি অভিযান শুরু হলেও উত্তরবঙ্গে নদীর বুক চিরে বেআইনি বালি তোলা অব্যাহত রয়েছে। সাম্প্রতিক ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও ধসের পরেও এক শ্রেণির অসাধু কারবারির কাছে প্রশাসন কার্যত অসহায়। অভিযোগ, মুখ্যমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও নদী থেকে অবৈধ বালি উত্তোলনে লাগাম পরানো যাচ্ছে না, যার নেপথ্যে প্রশাসনের নজরদারির অভাব ও স্থানীয় যোগসাজশকে দায়ী করা হচ্ছে।

সরকারি বালি খাদান থেকেও যেখানে বালি তোলার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে সরকার ও সেচ দফতর, সেখানে প্রকাশ্যেই চলছে এই অবৈধ কারবার। জানা যাচ্ছে, ডুয়ার্সের ডিমডিমা, কালুয়া ও রাঙাতি নদীজুড়ে এখনও দেদার বালি তোলা ও পাচারের কাজ চলছে। প্রশ্ন উঠছে—প্রশাসনের চোখের সামনে কীভাবে দিনের আলোয় সরকারি রাজস্ব ফাঁকি দিয়ে এই বেপরোয়া পাচার সম্ভব হচ্ছে?

বেআইনি বালি উত্তোলন ও পাচারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কড়া নির্দেশ থাকলেও, বাস্তবে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। এর ফলে একদিকে যেমন পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, তেমনই সরকার হারাচ্ছে কোটি কোটি টাকার রাজস্ব।

বিরোধীরা এই পরিস্থিতিতে পুলিশের নিচু তলার কিছু আধিকারিক এবং শাসক দলের কিছু নেতার যোগসাজশের অভিযোগ তুলেছেন। বিজেপি নেতা চন্দন দত্ত সরাসরি নিশানা করে বলেন, “তৃণমূলের প্রত্যক্ষ মদতেই এই সব হচ্ছে। বালি যাঁরা পাচার করছে তাদের বিরুদ্ধে এখনও আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।”

পরিবেশবিদদের দাবি, উত্তরবঙ্গে লাগাতার ধস ও প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের অন্যতম কারণ হল নদীর চর থেকে বেপরোয়া বালি উত্তোলন। মুখ্যমন্ত্রী নিজে বারংবার নদীর চর থেকে অবৈধভাবে বালি না তোলার জন্য বার্তা দিলেও, সেই সকল নিষেধাজ্ঞায় বুড়ো আঙুল দেখিয়ে চলেছে একশ্রেণির মানুষ।

যদিও এই অভিযোগের উত্তরে তৃণমূল নেতা রাজেশ কর বলেন, “কিছু অবৈধ চোরাকারবারি এই ব্যবসার সঙ্গে যুক্ত আছে। এঁরা রং, ধর্ম, বর্ণ সবকিছুর উর্ধ্বে। এদের পুলিশ দেখছে। কড়া ভাবেই পুলিশ পদক্ষেপ করছে। মুখ্যমন্ত্রীর নির্দেশ মেনেই এই কাজ চলছে।”

তবে ইডি’র সক্রিয়তা এবং পরিবেশ বিপর্যয়ের পরেও বালির এই অবৈধ কারবার বন্ধ না হওয়ায় প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে তীব্র অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।