২৫০ আসন সম্ভব, তবে…: TMC-তে ‘ঔদ্ধত্য’ ও ‘মেদ’ কাটার নির্দেশ! কুণাল ঘোষের পোস্টে তোলপাড়, কেন দিলেন এই বার্তা?

তৃণমূল কংগ্রেসের মুখপাত্র কুণাল ঘোষ ফের একবার দলের অন্দরে আত্মসমালোচনার সুর তুলে সোরগোল ফেলে দিলেন। সামাজিক মাধ্যমে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি স্পষ্ট বার্তা দিলেন—মাননীয়া মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্ব এবং অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাংগঠনিক গতিশীলতার ওপর বাংলার মানুষের আস্থা এখনও অটুট। এই আস্থার জোরেই আগামী নির্বাচনে ২৫০-র বেশি আসন পাওয়া সম্ভব, তবে এই ভিতকে আরও পোক্ত করতে হলে দলের ভেতরে কিছু জরুরি সংশোধন প্রয়োজন।
কুণাল ঘোষের মূল নিশানায় দলের সেই অংশ, যাঁরা জনসমর্থনের ফায়দা তুলে অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে ভুগছেন। তিনি লেখেন, “মানুষ নেত্রীর প্রতি আস্থা রাখছেন, অভিষেকের প্রতি ভালোবাসা দেখাচ্ছেন। কিন্তু এই অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসে যদি দলের ভেতরে কিছু নেতা বা কর্মী আসল রাজনীতি থেকে সরে গিয়ে ঔদ্ধত্যে ভুগতে শুরু করেন, তাহলে বিরক্ত হবেন সাধারণ মানুষও। তাই সময় এসেছে আত্মসমালোচনার।”
তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, মমতা সরকারের একাধিক জনকল্যাণমূলক প্রকল্পের সুফল রাজ্যের পড়ুয়া থেকে প্রবীণ, গৃহবধূ থেকে চাষি—সকলের কাছে পৌঁছেছে। ফলস্বরূপ, তৃণমূলের জনপ্রিয়তা এখনও অটুট। কিন্তু, এই জনসমর্থনকে ধরে রাখতে হলে স্থানীয় স্তরের ‘মেরামতি’ আবশ্যিক।
কুণাল ঘোষ সরাসরি সতর্ক করে জানিয়েছেন, ২৫০+ আসন পাওয়ার লক্ষ্য পূরণ করতে হলে ‘ইগো আর গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব সরিয়ে সবাইকে মানিয়ে চলতে হবে’। সেইসঙ্গে তাঁর কড়া বার্তা, “শাসকের শরীরে জমে ওঠা মেদ বর্জন করতে হবে। সঠিক মানুষকে চিনতে হবে।” এই মন্তব্য কার্যত দলের একাংশের ক্ষমতা-কেন্দ্রিকতা ও নিষ্ক্রিয়তার দিকে ইঙ্গিত করছে বলে মনে করছে ওয়াকিবহাল মহল।
নিজের রাজনৈতিক অতীত টেনে এনে কুণাল ঘোষ স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তৃণমূলের পুরনো দিনের লড়াই-সংগ্রামের কথা। তাঁর মতে, ক্ষমতা হাতে আসায় দল যেন সেই ‘নিঃস্বার্থ লড়াইয়ের আবেগ’ হারিয়ে না ফেলে।
তিনি স্পষ্ট বলেছেন, দলকে কৃত্রিম আবহ থেকে দূরে থাকতে হবে এবং কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে ‘অর্গ্যানিক আবেগ, নিঃশর্ত ভালোবাসা এবং আত্মত্যাগের মানসিকতা’ ফিরিয়ে আনতে হবে। তাঁর মতে, “শাসকের জৌলুস নয়, প্রাণশক্তি দিয়ে ভরপুর তৃণমূল চাই। সেই দল থাকলে বিজেপি, সিপিএম কিংবা অন্য বিরোধীরা ঝড়ে উড়ে যাবে।”
রাজনৈতিক মহলে কুণালের এই পোস্টকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। এটি একদিকে যেমন দলের ভেতরে এক কঠোর আত্মসমালোচনার বার্তা, তেমনই অন্যদিকে বিরোধীদের উদ্দেশ্যে মমতা-অভিষেক জুটির প্রতি তৃণমূলের আত্মবিশ্বাসী ঘোষণা। আসন্ন নির্বাচনের আগে তাঁর এই সতর্কবার্তা তৃণমূলের রণকৌশল ও শৃঙ্খলার জন্য এক ‘সতর্ক সঙ্কেত’ হিসেবেই বিবেচিত হচ্ছে।