‘সিকিমকে নিয়ে ভয় হচ্ছে, উত্তরাখণ্ডের মতো বিপর্যয় আসতে পারে’! দার্জিলিংয়ের প্রশাসনিক বৈঠক থেকে হুঁশিয়ারি মমতার

টানা চারদিন ধরে উত্তরবঙ্গে থেকে বিপর্যস্ত এলাকার পরিস্থিতি খতিয়ে দেখার পর বুধবার দার্জিলিংয়ে প্রশাসনিক বৈঠক করলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। বৃহস্পতিবার তাঁর কলকাতায় ফেরার কথা থাকলেও, তার আগে পাহাড়ের পরিস্থিতি নিয়ে তিনি একাধিক গুরুত্বপূর্ণ ঘোষণা করেন এবং সিকিম নিয়ে বড়সড় আশঙ্কা প্রকাশ করেন।

প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় সিকিমের পরিস্থিতি নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, “১৪টি হাইডেল পাওয়ার সিকিমে তৈরি করা হয়েছে। প্রকৃতিকে নিয়ে খেলা যায় না। সিকিমকে নিয়ে ভয় হচ্ছে, উত্তরাখণ্ডের মতো কোনো ডিজাস্টার ঘটে যেতে পারে। ধস সবচেয়ে বড় সমস্যা।” মুখ্যমন্ত্রী পরোক্ষভাবে জানিয়ে দেন, অতিরিক্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের কারণেই সিকিমে বড় প্রাকৃতিক বিপর্যয় ঘটতে পারে।

সাম্প্রতিক প্রবল বৃষ্টি এবং ভুটান থেকে জল ছাড়ার কারণে উত্তরবঙ্গের বেশ কয়েকটি এলাকা কার্যত তছনছ হয়ে যায়। এদিন প্রশাসনিক বৈঠকে মুখ্যমন্ত্রী ক্ষয়ক্ষতির খতিয়ান তুলে ধরেন। তিনি জানান, উত্তরবঙ্গে বিপর্যয়ে মোট ৩২ জনের মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে দার্জিলিঙেই মৃতের সংখ্যা ২১।

এই দুর্যোগে কেন্দ্রের সাহায্য না পাওয়া নিয়েও কেন্দ্রের বিরুদ্ধে দ্বিচারিতার অভিযোগ তোলেন মমতা। তিনি বলেন, “আমরা এক পয়সা পাইনি, তা সত্ত্বেও আমাদের সরকার কীভাবে মানুষকে সাহায্য করেছে সেটা সবাই দেখতে পাচ্ছেন।”

ত্রাণ এবং পুনর্গঠন প্রসঙ্গে মুখ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমানে ৩৭টি ত্রাণ শিবিরে এখনো প্রায় সাড়ে ৬ হাজার মানুষ রয়েছেন। তাঁদের রান্না করে খাওয়ানো হচ্ছে এবং যতক্ষণ না তারা নিরাপদে বাড়ি ফিরতে পারছেন, ততদিন এই শিবিরগুলি চালু থাকবে। তিনি আরও জানান, দুধিয়ার অস্থায়ী সেতু আর সাত দিনের মধ্যেই তৈরি হয়ে যাবে।

কেন্দ্র টাকা না দিলেও রাজ্য সরকার নিজেদের কাজ করে যাচ্ছে জানিয়ে মুখ্যমন্ত্রী জনগণের উদ্দেশে বলেন, এক্ষেত্রে যদি কেউ দুর্গতদের সাহায্য করতে চান, তবে সরকারের তরফে ওয়েস্টবেঙ্গল স্টেট ডিজাস্টার ম্যানজেমেন্ট অথরিটির নামে ডিজাস্টার রিলিফ ফান্ড চালু করা হয়েছে। যে কেউ চাইলে সরাসরি এই ফান্ডে সাহায্য করতে পারেন।