‘আমরা তো প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছি!’ SSC গ্রুপ C, D নিয়োগে সময়সীমার আর্জি খারিজ করল সুপ্রিম কোর্ট

পশ্চিমবঙ্গের নবম-দশম ও একাদশ-দ্বাদশের নিয়োগ পরীক্ষা শেষ হতেই এবার গ্রুপ সি এবং গ্রুপ ডি (Group C, Group D) অর্থাৎ শিক্ষাকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করেছে স্কুল সার্ভিস কমিশন (SSC Recruitment)। তবে এর মধ্যেই শিক্ষাকর্মী নিয়োগের সময়সীমা বেঁধে দেওয়ার যে আবেদন সুপ্রিম কোর্টে করা হয়েছিল, তা সরাসরি খারিজ করে দিয়েছে দেশের শীর্ষ আদালত। এই নিয়োগ প্রক্রিয়ায় আর কোনওরকম হস্তক্ষেপ করতে রাজি নয় বলে স্পষ্ট জানাল সুপ্রিম কোর্ট।
শিক্ষক নিয়োগের মতোই শিক্ষাকর্মী নিয়োগের ক্ষেত্রেও একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হোক—এই আবেদন নিয়ে সুপ্রিম কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিলেন ‘যোগ্য’ শিক্ষাকর্মীদের একাংশ। মামলাকারীদের বক্তব্য ছিল, নির্দিষ্ট সময়সীমা বেঁধে না দেওয়া হলে নিয়োগ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হবে।
সোমবার সুপ্রিম কোর্টের বিচারপতি সঞ্জয় কুমার এবং বিচারপতি অলোক আরাধে-এর বেঞ্চে এই মামলাটি শুনানির জন্য ওঠে। দুই বিচারপতিই সিবিআই-এর ভূমিকায় গভীর হতাশা প্রকাশ করেন।
আদালতের পক্ষ থেকে মামলাকারীদের উদ্দেশে তীব্র বিরক্তি প্রকাশ করা হয়। বিচারপতিরা পর্যবেক্ষণ করেন, এই মামলার মূল রায় আগেই ঘোষণা করা হয়েছে। তাহলে কেন বারবার একই বিষয় নিয়ে আবেদন করা হচ্ছে?
সুপ্রিম কোর্ট কড়া ভাষায় বলে, “আমরা তো পুরো প্যানেলই বাতিল করে দিয়েছি। বার বার আর একই বিষয় নিয়ে কেন আদালতে মামলা হচ্ছে? কোনো অতিরিক্ত মামলার আবেদন শোনা হবে না।”
যদিও মামলাকারীরা জানান, শিক্ষক নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হলেও শিক্ষাকর্মী নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি দিতে দেরি করা হয়েছে এবং নিয়োগ অনিশ্চিত।
এই অবস্থায় তাদের আবেদন শুনতে রাজি হয়নি শীর্ষ আদালত। দুই বিচারপতির বেঞ্চ মামলাকারীদের উদ্দেশে মন্তব্য করে, “নিয়োগের বিজ্ঞপ্তি জারি হলে নতুন কোনো বিষয়ে মামলা করা যেতে পারে। সেই স্বাধীনতা দিচ্ছি। তবে আদালত এই মামলা শুনবে না। আগে আপনারা হাইকোর্টে যান।”
উল্লেখ্য, সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে বিগত প্রায় ৬ মাস ধরে গ্রুপ C এবং গ্রুপ D-র কর্মীদের বেতন বন্ধ রয়েছে। গত এপ্রিল মাসে আদালত এসএসসি ২০১৬ সালের নিয়োগের গোটা প্যানেলটিই বাতিল করে দেয়। দাগী নন এমন শিক্ষকরা বহাল থাকলেও শিক্ষাকর্মীরা পুরোপুরি পথে বসেছেন। এই পরিস্থিতিতে নতুন বিজ্ঞপ্তির পরেও আদালতের হস্তক্ষেপ না করার সিদ্ধান্তে নিয়োগের ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা আরও বাড়ল।