জেডিইউ-এর দাপট শেষ! নীতীশের জেদ খাটল না, বিহারে এনডিএ-এর আসন রফায় বিজেপি কেন দিল চিরাগকে বাড়তি গুরুত্ব?

দীর্ঘ জল্পনার পর অবশেষে চূড়ান্ত হলো বিহার বিধানসভা নির্বাচনের জন্য এনডিএ জোটের আসন রফা। রবিবার রাতে এই রফা চূড়ান্ত হওয়ার পর যে তালিকা প্রকাশ করা হয়েছে, তা বিহারের রাজনীতির ক্ষেত্রে এক বড় পালাবদলের ইঙ্গিত দিচ্ছে। রাজনৈতিক মহলের ধারণা, এই আসন বণ্টনের মাধ্যমে বিজেপি এক ঢিলে অনেক পাখি মারল এবং বুঝিয়ে দিল, জোটের রাশ এখন পুরোপুরি তাদের হাতে।

আসন রফার চূড়ান্ত চিত্র
বিহারের মোট ২৪৩টি বিধানসভা আসনের মধ্যে কোন দল কত আসনে লড়বে, তার চিত্রটি নিম্নরূপ:

দল প্রাপ্ত আসন সংখ্যা
বিজেপি ১০১টি
জেডিইউ (JDU) ১০১টি
লোক জনশক্তি পার্টি (LJP) – চিরাগ পাসওয়ান ২৯টি
হাম (HAM) – জিতেন রাম মাঝি ৬টি
আরএলএম (RLM) – উপেন্দ্র কুশওয়া ৬টি

Export to Sheets
এক ঢিলে অনেক পাখি মারল বিজেপি
এই আসন রফার মধ্যে দিয়েই বিজেপি একাধিক কৌশলগত লক্ষ্য পূরণ করল বলে মনে করা হচ্ছে:

১. নীতীশকে বার্তা: জেডিইউ-কে বিজেপির সমসংখ্যক আসন (১০১টি) দিয়ে পদ্ম শিবির স্পষ্ট করে দিল যে, বিহারে আর জেডিইউ-কে জোটের ‘বড় দল’ হিসেবে মানতে তারা রাজি নয়। এটি একসময় জোটের প্রধান শক্তি নীতীশ কুমারের দাপট কমানোর স্পষ্ট ইঙ্গিত। এর আগে ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচনেও বিজেপি জেডিইউ-এর চেয়ে বেশি আসনে লড়েছিল।

২. চিরাগকে বাড়তি গুরুত্ব: সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো, চিরাগ পাসওয়ানের এলজেপি-কে ২৯টি আসন ছাড়া। বিশ্লেষকদের মতে, এর মাধ্যমে জেডিইউ-এর উপরে বিজেপির নির্ভরশীলতা কমে গেল।

৩. ভবিষ্যতের বিনিয়োগ: রাজনৈতিক বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চিরাগকে তুষ্ট করে বিজেপি আসলে নীতীশ কুমারকে বার্তা দিল। বিজেপি দলিত মুখ হিসেবে চিরাগ পাসওয়ানকেই ভবিষ্যতে তুলে ধরতে চাইছে। এর মাধ্যমে রামবিলাস পাসওয়ানের পুত্রের ওপরই যে বিজেপি দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ করতে আগ্রহী, তা স্পষ্ট করে দেওয়া হলো।

৪. মাঝির গুরুত্ব হ্রাস: অন্যদিকে চিরাগকে গুরুত্ব দিতে গিয়েই কমেছে জিতেন রাম মাঝির দল ‘হাম’-এর আসন সংখ্যা। গতবারের তুলনায় মাঝির দলকে কম আসন দিয়েও জোটের সমীকরণ নিয়ন্ত্রণ করল বিজেপি।

সবমিলিয়ে, এই আসন রফার মাধ্যমে বিহারের রাজনীতিতে জোটের নেতৃত্ব যে বিজেপির দিকেই ঝুঁকেছে এবং ভবিষ্যতে দলিত ভোটব্যাঙ্কের জন্য চিরাগ পাসওয়ানকে তৈরি করা হচ্ছে, সেই বার্তা স্পষ্ট হয়ে গেল।