দুর্গাপূজা থেকে বিশ্ববিদ্যালয়—চারিদিকে শুধু ‘খেলা’! রাজ্যের কোন চরম সত্য মেইনস্ট্রিম মিডিয়া দেখাচ্ছে না?

আজ আমরা চাকরি বা রেশন দুর্নীতি নিয়ে নয়, কথা বলব এমন কিছু ঘটনা নিয়ে যা আপনার রাজ্যের ভবিষ্যৎকে অন্ধকারে ঠেলে দিচ্ছে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ নিয়ে চলছে রাজনীতি, তো কখনও ধর্ম আর সংরক্ষণের হিসেব নিয়ে চলছে ছেলেখেলা! প্রাইমারি, হাইস্কুলের পর এবার দুর্নীতি ঢুকে পড়ল স্বয়ং বিশ্ববিদ্যালয়েও! India Hood ডিকোডে আজ আমরা আপনাদের সামনে তুলে ধরব সেই তথ্য, যা চিন্তায় ফেলবে প্রতিটি বাঙালিকে।
১. দুর্গোৎসব বনাম রাজনৈতিক বার্তা!
এবারের দুর্গোৎসব বাংলার রাজনীতিতে কয়েকটি বেনজির ঘটনা দেখিয়েছে।
মুখ্যমন্ত্রীর ‘হিজাব’ ভঙ্গি? মহালয়ার আগের দিন হাতিবাগান সর্বজনীন মাতৃ মন্দিরের উদ্বোধনে গিয়ে বৃষ্টি থেকে বাঁচতে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ছাতা না নিয়ে সাদা কাপড় দিয়ে মাথা ঢাকেন—যা সহজাত ঘোমটার বদলে ছিল হিজাবের স্টাইলে!
পুজো বন্ধের নির্দেশ: সাগরের চকফুলডুবি এলাকার বারোয়ারি দুর্গাপূজা কমিটি বন্ধ করে দেওয়া হয় সুন্দরবন উন্নয়ন মন্ত্রী বঙ্কিমচন্দ্র হাজরার নির্দেশে। কমিটির অভিযোগ— পুজোর থিম ‘অপারেশন সিঁদুর’ হওয়াই ছিল প্রধান ‘দোষ’!
আজান ও অঞ্জলি: মহাঅষ্টমীর দিনে মুর্শিদাবাদের ফরাক্কার মহেশপুর এলাকার একটি দুর্গাপূজার মণ্ডপে অঞ্জলীর সময়সূচির বদলে দেখা যায় আজানের সময়সূচি!
মদন মিত্রের গান: দুর্গাপূজার প্যান্ডেলে তৃণমূল বিধায়ক মদন মিত্র গেয়ে ওঠেন, “আমার হৃদয়ে কাবা, চোখে মদিনা”, আর পাশে দাঁড়িয়ে গানের তালে হাততালি দেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। প্রশ্ন উঠছে, তবে কি একতরফা সম্প্রীতির ডাক শুধুমাত্র একটি বিশেষ সম্প্রদায়ের জন্য?
২. OBC সংরক্ষণে ধর্ম বিতর্ক: হাইকোর্টের পরেও কেন এই পদক্ষেপ?
রাজ্যের তৎকালীন বামফ্রন্ট সরকার OBC সংরক্ষণের ব্যবস্থা চালু করলেও তাতে ধর্মভিত্তিক কোনো ভাগ ছিল না। কিন্তু ২০১০ সালের পর থেকে OBC-এ (মূলত মুসলিম) এবং OBC-B (তুলনামূলক এগিয়ে থাকা শ্রেণি) নামে বিভাজন শুরু হয়।
বিতর্ক বাড়ে ২০১২ সালে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার “West Bengal Backward Classes Act, 2012” পাস করার পর। অভিযোগ ওঠে, নিয়ম না মেনে ইচ্ছে মতো OBC সার্টিফিকেট বিলি করেছে তৃণমূল সরকার।
হাইকোর্টের রায়: দীর্ঘ ১২ বছরের শুনানি শেষে ২০২৪ সালের ২২শে মে কলকাতা হাই কোর্ট ২০১০ সালের পরে তৈরি হওয়া প্রায় ১২ লক্ষ OBC সার্টিফিকেট বাতিল করে দেয়!
সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশ: ২০২৪ সালের ৯ই ডিসেম্বর সুপ্রিম কোর্ট জানায়, সংরক্ষণ ধর্মভিত্তিক হতে পারে না।
রাজ্যের ‘যুগান্তকারী’ পদক্ষেপ: আদালতের রায়ের তোয়াক্কা না করে ২০২৫ সালে OBC-তে ৭৬টি নতুন সম্প্রদায় যোগ করা হয়, যার মধ্যে ৬৬টিই মুসলিম সম্প্রদায় (অর্থাৎ প্রায় ৮৫ শতাংশ!)। রাজ্যের মুসলিম জনসংখ্যা যেখানে মাত্র ২৭ শতাংশ, সেখানে এই ধরনের পরিসংখ্যান নিয়ে প্রশ্ন উঠছে।
সংরক্ষণ বৃদ্ধি: ২০২৫ সালের ৩রা জুন OBC-র সংরক্ষণ ৭ থেকে বাড়িয়ে করা হয় ১৭ শতাংশ (OBC-A দের জন্য ৭% এবং OBC-B দের জন্য ১০%)। মুখ্যমন্ত্রীর দাবি ধর্মের ভিত্তিতে ভাগ হচ্ছে না, তবে এই পরিসংখ্যান কীসের ইঙ্গিত দিচ্ছে?
৩. শিল্প-বাণিজ্য ও সমাজ: গভীর হচ্ছে সংকট!
কেবল ধর্ম বা রাজনীতি নয়, সমাজের মূল কাঠামোতেও চলছে বড়সড় পতন।
বাল্যবিবাহে শীর্ষে বাংলা: কন্যাশ্রী-রূপশ্রীর মতো প্রকল্প থাকা সত্ত্বেও, স্যাম্পল রেজিস্ট্রেশন সিস্টেম (SRS)-এর রিপোর্ট অনুযায়ী, ভারতে বাল্যবিবাহের হার এখন পশ্চিমবঙ্গে সবচেয়ে বেশি—১৮ বছরের কম বয়সে বিয়ে করা মেয়েদের হার ৬.৩%!
শিল্পের পতন ও কোম্পানি পলায়ন: ২০১২-১৩ সাল থেকে ২০২২-২৩ সালে রাজ্যে নথিভুক্ত সংস্থা ৭.৮ শতাংশ কমেছে। গত ১৪ বছরে পশ্চিমবঙ্গ ছেড়েছে ৬৬৪৮টি কোম্পানি, যার বেশিরভাগই মহারাষ্ট্র ও দিল্লিতে চলে গিয়েছে।
ইনসেনটিভ বাতিল: ২০০১-০২ সালের বাম আমলের ‘ইনসেনটিভ স্কিম’ (রাজ্যে বিনিয়োগে আর্থিক সুবিধা) তৃণমূল সরকার বাতিল করে দেওয়ায় রাজ্য সরকারের বিরুদ্ধে ইতিমধ্যেই কোর্টে পিটিশন ফাইল করেছে একাধিক সংস্থা। আশঙ্কা, আরও কোম্পানি রাজ্য ছাড়তে পারে।
৪. বিশ্ববিদ্যালয়ে ৮৩৭ কোটির দুর্নীতির বিস্ফোরণ!
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে, MAKAUT বিশ্ববিদ্যালয়ের নামে উঠেছে প্রায় ৮৩৭ কোটি টাকার দুর্নীতির অভিযোগ! অভিযোগ উঠেছে:
৩৪২ কোটি টাকার কোনো হিসেব নেই।
১২৮ কোটি টাকা খরচের শংসাপত্র জমা দেওয়া হয়নি।
কাজ শেষ না করেই নেওয়া হয়েছে ২১৪ কোটি টাকা অগ্রিম।
এই বিশ্ববিদ্যালয়েই মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের ভাই বাবুন ব্যানার্জি প্রতি মাসে ১ লাখ টাকা বেতন পান স্পোর্টস কনসালটেন্ট হিসাবে!
৫. উত্তরবঙ্গের দুর্যোগেও ‘নির্মম রাজনীতি’
গত ৪ঠা অক্টোবর উত্তরবঙ্গে গুরুতর দুর্যোগ, ধ্বসে যায় রাস্তা ও সেতু। যখন উত্তরবঙ্গের মানুষ বিপর্যয়ের কবলে, মুখ্যমন্ত্রী তখন কলকাতায় কার্নিভালে ব্যস্ত! বিরোধী দলের নেতারা পরিস্থিতি পরিদর্শনে গেলে তাঁদের ওপর নির্মম হামলা করে তৃণমূল কর্মীরা। মুখ্যমন্ত্রী এই বন্যা পরিস্থিতিকে ‘ম্যান মেড’ বলে দেশের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গেও রাজনীতি শুরু করেন।
যে ঘটনাগুলি বাংলার মূল ধারা থেকে গায়েব হয়ে যাচ্ছে, সেই তথ্যগুলি যদি আপনার মনে হয় সবার জানা উচিত, তবে অবশ্যই শেয়ার করে এই সংবাদটি ভাইরাল করুন।