‘সরকারের প্রচেষ্টাতেই দুর্গাপূজা পেয়েছে বিশ্ব স্বীকৃতি!’ ছট পুজো নিয়ে মোদীর ঘোষণার পরই কেন উঠল বাংলার উৎসব প্রসঙ্গ?

দেবী বোধনের দিনেই ফের একবার দুর্গাপূজার (Durga Puja) ইউনেস্কো স্বীকৃতি (UNESCO Heritage) নিয়ে কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের মধ্যে চলছে দড়ি টানাটানি। রবিবার প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী (Narendra Modi) তাঁর মাসিক রেডিও অনুষ্ঠান ‘মন কি বাত’ (Mann Ki Baat)-এর ১২৬তম সংস্করণে দাবি করেছেন, ভারত সরকারের প্রচেষ্টাতেই কলকাতার দুর্গাপূজা বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি পেয়েছে।
অন্যদিকে, প্রধানমন্ত্রী এই অনুষ্ঠানে ঘোষণা করেছেন যে, ভারত সরকার এবার ছট মহাপর্বকে (Chhath Mahaparv) ইউনেস্কোর অস্পষ্ট সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের তালিকায় যুক্ত করার জন্য কাজ করছে।
মোদীর দাবি: আমাদের প্রচেষ্টাতেই বিশ্ব স্বীকৃতি
ছট পুজো প্রসঙ্গে বলতে গিয়েই প্রধানমন্ত্রী মোদী দুর্গাপূজার প্রসঙ্গ উত্থাপন করেন। তিনি বলেন, “কিছুদিন আগে ভারত সরকারের অনুরূপ প্রচেষ্টার কারণেই কলকাতার দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর তালিকার অংশ হয়ে ওঠে।”
তাঁর বক্তব্যের মূল বার্তা ছিল—ভারতের উৎসবগুলির বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতির অর্থ হলো, এই উৎসবগুলিতে বিশ্বের অসংখ্য মানুষের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করা। মোদী বলেন, “আমরা যদি আমাদের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানগুলিকে এই ধরনের বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি দিই, তাহলে বিশ্বও তাদের সম্পর্কে জানবে, বুঝতে পারবে। এতে অংশগ্রহণ করতে এগিয়ে আসবে।”
উল্লেখ্য, ২০২১ সালে দুর্গাপূজা ইউনেস্কোর বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য হিসেবে স্বীকৃতি পেয়েছিল। সেই সময় রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় (Mamata Banerjee) প্রকাশ্যে দাবি করেছিলেন যে, এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি পাওয়ার কৃতিত্ব তাঁর সরকারেরই। প্রধানমন্ত্রীর রবিবারের মন্তব্য সেই পুরনো বিতর্কের আগুনে নতুন করে ইন্ধন জোগাল।
ছট মহাপর্ব নিয়ে মোদীর বার্তা
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী ছট পুজোকে সূর্য দেবতার উদ্দেশ্যে নিবেদিত একটি বিশেষ উৎসব হিসেবে বর্ণনা করেন। তিনি বলেন, ছট পুজোর মতো উৎসবগুলি ভারতীয় সংস্কৃতিকে বাঁচিয়ে রাখে এবং এটি এখন শুধু ভারতের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়, বরং বিশ্বজুড়ে পালন করা হয়। এই উৎসবকে ইউনেস্কোর তালিকায় যুক্ত করার জন্য কেন্দ্র কাজ করছে বলে তিনি জানান।
‘মন কি বাত’ অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী আরএসএস-এর ১০০ বছর, ভগৎ সিং-এর জন্মদিন এবং নবরাত্রী-সহ একাধিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়েও আলোকপাত করেন।