‘বিজেপিতেই আছি’! তৃণমূল নেতার পুজো উদ্বোধনে এসে স্পষ্ট জবাব জয়া প্রদার

চতুর্থীর সন্ধ্যায় রাজ্য রাজনীতিতে যেন ‘পুজোর চমক’! অভিনেত্রী তথা বিজেপি নেত্রী জয়া প্রদা এক নয়, দু’টি দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করলেন— বর্ধমান শহর এবং দুর্গাপুরে। এর মধ্যে একটি ছিল তৃণমূল কংগ্রেসের এক নেতার পুজো, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে তুমুল জল্পনা তৈরি হয়েছে।

বিজেপি নেত্রী হয়ে তৃণমূল নেতার পুজোয়?
শুক্রবার দুর্গাপুরের কাঁকসায় তৃণমূল কংগ্রেসের জেলা পরিষদের সদস্য বৈশাখী বন্দ্যোপাধ্যায় এবং তাঁর স্বামী তৃণমূল নেতা পল্লব বন্দ্যোপাধ্যায়ের পুজোর উদ্বোধনে আসেন জয়া প্রদা। বিজেপি নেত্রী হয়ে তৃণমূল নেতার পুজো উদ্বোধন করতে আসায় রাজনৈতিক জল্পনা শুরু হয়।

এই বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে জয়া প্রদা সরাসরি জবাব দেন, “আমি এখনও বিজেপিতেই আছি, পাশাপাশি আমি সিনেমাতেও আছি।” তাঁর স্পষ্ট দাবি, তিনি একজন অভিনেত্রী হিসেবে এই পুজোর উদ্বোধনে এসেছেন, রাজনৈতিক পরিচয়ে নয়।

অভিনয় নিয়ে কথা বলতে গিয়ে জয়া প্রদা তাঁর আগামী ছবি ‘ফৌজি’-এর খবর দেন। তিনি জানান, প্রভাস এবং মিঠুন চক্রবর্তীর সঙ্গে তাঁর এই ছবিটি খুব দ্রুত মুক্তি পাবে। তিনি সকলকে নবরাত্রির শুভেচ্ছা জানিয়ে বলেন, “এই সময়ে দেবী মায়ের কাছে যে যা প্রার্থনা করবেন, আশা করব তা পূরণ হবে।”

অন্যদিকে, বর্ধমান শহরে সবুজ সংঘের পুজো মণ্ডপের উদ্বোধন করেও সকলকে মুগ্ধ করেন জয়া প্রদা। মঞ্চে উঠে তিনি বিখ্যাত ‘ডাফলিওয়ালে’ গানের তালে নাচেন, যা দেখে দর্শনার্থীরা আনন্দে আত্মহারা হয়ে যান।

সবুজ সংঘের মঞ্চ থেকে অভিনেত্রী পশ্চিমবঙ্গকে তাঁর ‘দ্বিতীয় বাড়ি’ বলে উল্লেখ করেন। তিনি বলেন, “আমরা সকলে মা দুর্গার সন্তান। মা আমাদের সকলকে রক্ষা করবেন।”

বহুদিন ধরে রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিজ্ঞতা টেনে তিনি বলেন, “এই রাজ্য সম্পর্কে আমার বিশেষ কিছু জানা নেই, তবে আমিও দীর্ঘদিন রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত, ফলে আমাকেও অনেক কিছুর সঙ্গে মোকাবিলা করতে হয়েছে।” তিনি ঈশ্বরের কাছে সকলের পথ সুগম করার প্রার্থনা জানান।

উল্লেখ্য, জয়া প্রদা একসময় সমাজবাদী পার্টির সাংসদ ছিলেন। পরে তাঁকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়। কয়েক বছর আগে তিনি সমাজবাদী পার্টির নেতা আজম খানের বিরুদ্ধে হয়রানি ও হামলা চালানোর অভিযোগ তুলেছিলেন। বর্ধমানে পুজো উদ্বোধনের মঞ্চেও তিনি সেই পুরনো প্রসঙ্গটি ফের একবার মনে করিয়ে দেন।