বাঁশ ও গাছের মূল কেটে শিল্প, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষকের হাতেই জন্ম নিচ্ছে সজারু, গিরগিটি ও নানা পশু-পাখি

কাঠ কেটে ভাস্কর্য তৈরির শিল্প স্বাভাবিক হলেও, মাটির নিচে থাকা বাঁশ কিংবা বিভিন্ন গাছের মূলের লুকানো রূপকে শিল্পের মাধ্যমে ফুটিয়ে তোলাটা এক বিরল প্রতিভা। আর সেই বিরল কাজটিই দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে করে চলেছেন পশ্চিম মেদিনীপুরের বেলদা থানার জাহালদার বাসিন্দা, অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক কালাইলাল মহাপাত্র। তাঁর নিখুঁত চিন্তাভাবনা এবং সৃজনশীল উদ্যোগ মুগ্ধ করেছে সকলকে।

মূল কেটে ফুটে উঠছে অনন্য রূপ
কালাইলাল মহাপাত্র দেখিয়েছেন যে গাছের মূলের আঁকাবাঁকা আকার কিংবা সামান্য কাটছাঁটেই এক একটি অনন্য ছবি ফুটে উঠতে পারে।

বিচিত্র ভাস্কর্য: কখনও সজারু, কখনও জিমনাস্টিক-এর ধরণ, গিরগিটি, বিড়াল, পাখি, মাছ কিংবা শুয়ে থাকা মানুষের রূপ—অসংখ্য প্রতিকৃতি তিনি তৈরি করেছেন বাঁশ ও গাছের মূল ব্যবহার করে।

কর্মপদ্ধতি: তিনি ছোট থেকে বড় আকারের মূল সংগ্রহ করে নিয়ে আসেন। এরপর সামান্য পরিষ্কার করে বা সামান্য কাটলেই বেরিয়ে আসে এক এক ধরনের আকৃতি, যা তিনি চূড়ান্ত ভাস্কর্য রূপে প্রকাশ করেন।

ব্রাহ্মণখলিসার বাসিন্দা হলেও কর্মসূত্রে জাহালদাতে আসেন এই শিক্ষক। শিক্ষকতা জীবনেও তাঁর সৃজনশীল কাজের পরিচিতি ছিল।

কটাক্ষ পেরিয়ে মিউজিয়াম তৈরি
দীর্ঘ কয়েক বছর ধরে তিনি যখন এই কাজ শুরু করেন, তখন অনেকে কটুক্তিও করতেন। কিন্তু সেসবকে তোয়াক্কা না করে কালাইলাল মহাপাত্র তাঁর শিল্পকর্মের সঙ্গেই নিজেকে নিয়োজিত রেখেছেন।

বয়স বাড়লেও শিল্পকর্মের প্রতি তাঁর মনোযোগ এতটুকু কমেনি। তিনি নিজের বাড়িতেই এই সকল সৃজনশীল কাজ দিয়ে একটি ছোট্ট মিউজিয়াম তৈরি করে রেখেছেন। প্রতিদিন বিভিন্ন স্কুল-কলেজের ছাত্র-ছাত্রী থেকে শুরু করে গবেষকেরা পর্যন্ত ছুটে আসেন তাঁর এই হাতের কাজ দেখতে।

গাছের মূলের এই শিল্পকর্ম শুধু তাঁর মন ভালো রাখার উপাদানই নয়, এটি প্রকৃতি ও শিল্পের এক অপূর্ব মেলবন্ধন, যা এই অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষককে স্থানীয় মহলে এক অনন্য পরিচিতি দিয়েছে।