‘আমাদের সিভিক সেন্স কবে আসবে?’ প্লাস্টিক ও আবর্জনা নিয়ে চরম অসন্তোষ মমতার, সাধারণ মানুষকে কড়া বার্তা!

এক রাতের ভারী বৃষ্টিতে কলকাতা জলমগ্ন হয়ে পড়লেও, রেকর্ড সময়ের মধ্যে শহরকে চেনা ছন্দে ফিরিয়ে এনেছে পুরসভা। তবে জল নামতেই খাল ও নর্দমার যে ভয়াবহ চিত্র সামনে এসেছে, তাতে নাগরিক সচেতনতা নিয়ে চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়।

রাজ্যের সেচ মন্ত্রী মানস ভুঁইয়া জানিয়েছেন, খাল পরিষ্কার করতে গিয়ে সাফাই কর্মীরা রীতিমতো চমকে উঠছেন। প্লাস্টিকের বোতল, ব্যাগ ছাড়াও খাল থেকে উঠে আসছে খাট, তোষক, গদি, বালিশ-এর মতো ঘর গৃহস্থালীর জিনিস। মন্ত্রীর প্রশ্ন, এই যদি অবস্থা হয়, তবে খাল দিয়ে জল স্বাভাবিক স্রোতে বইবে কীভাবে?

এই আবর্জনা নিয়েই সাধারণ নাগরিকদের উদ্দেশে কঠোর বার্তা দিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন:

“প্লাস্টিক ফেলে রাখা হচ্ছে যেখানে সেখানে, তা নর্দমায় আটকে যাচ্ছে। আমাদের সিভিক সেন্স কবে আসবে?”

মুখ্যমন্ত্রী আরও বলেন, “প্রতি পাড়ায় ডাস্টবিন দেওয়া হয়েছে। তারপরও প্লাস্টিকগুলো নালায় ফেলা হচ্ছে। কোথাও বাড়ি তৈরি হচ্ছে, তার ইট-বালি-চুন-সুরকি বর্ষায় ভেসে নালা বন্ধ করে দিচ্ছে।”

আশঙ্কা সত্ত্বেও কলকাতা পুরসভা নিকাশি ব্যবস্থায় বড় সাফল্য পেয়েছে। মুখ্যমন্ত্রী জানান, “সাত ঘণ্টার মধ্যে জল ক্লিয়ার (পরিষ্কার) করতে পেরেছি। বেশিরভাগটাই পরিষ্কার করেছি। দু-একটা লোল্যান্ড (নিচু জায়গা) ছাড়া সব জায়গা থেকে মোটামুটি জল নেমে গিয়েছে।”

মঙ্গলবার ভোর থেকেই পুরসভা ও সেচদপ্তর ২৯টি পাম্পিং স্টেশন খুলে দেয়। উত্তর শহরতলির দমদম অথবা গঙ্গা লাগোয়া বাগবাজারের নিচু এলাকাগুলোতে জল জমলেও, রাতেই লকগেট খুলে দেওয়ায় দ্রুত জল নামতে শুরু করে। ঠনঠনিয়ার মতো নিচু এলাকা থেকেও ভোরে জল সরে যায়, কারণ পুরসভা পোর্টেবল পাম্প ব্যবহার করে জমা জল সরিয়েছে।

তবে এই সাফল্যের মাঝেও খাল-নর্দমায় আবর্জনার পাহাড় দেখে রাজ্যের সেচ মন্ত্রী ঘোষণা করেছেন, সাধারণ নাগরিকদের এই ব্যাপারে সচেতন করতে ক্যাম্প করবে রাজ্য সরকার।