ফুটন্ত তেলে হাত রেখে ‘সতীত্বের প্রমাণ’! গৃহবধূকে নৃশংস অগ্নিপরীক্ষা দিতে বাধ্য করল স্বামী ও শ্বশুরবাড়ির লোকজন

একুশ শতকে এসেও যেন ফিরে এলো সীতার ‘অগ্নিপরীক্ষার’ সেই নির্মম দৃশ্য! গুজরাটের মেহসানা জেলায় স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ততা প্রমাণের জন্য এক গৃহবধূকে ফুটন্ত তেলে হাত ডুবিয়ে ‘অগ্নিপরীক্ষা’ দিতে বাধ্য করা হয়েছে। এই অমানবিক ঘটনার শিকার গৃহবধূ বর্তমানে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ তাঁর স্বামীসহ শ্বশুরবাড়ির ৪ সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে।

সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যম সূত্রে জানা গেছে, ঘটনাটি ঘটেছে মেহসানার বিজাপুর তালুকের গেরিতা গ্রামে। গৃহবধূর শ্বশুরবাড়ির সদস্যরা তাঁকে দীর্ঘদিন ধরে বিবাহবহির্ভূত সম্পর্কের সন্দেহে চাপ দিচ্ছিলেন। তাঁদের ধারণা ছিল, তিনি স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত নন। ১৬ সেপ্টেম্বর পারিবারিক অশান্তি চরমে পৌঁছালে গৃহবধূর ননদ, স্বামী এবং পরিবারের অন্য সদস্যরা তাঁর ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেন। তাঁকে বলা হয়, যদি তিনি সত্যিই স্বামীর প্রতি বিশ্বস্ত হন, তাহলে তাঁকে ফুটন্ত তেলে হাত ডুবিয়ে তা প্রমাণ করতে হবে। যদি হাত না পোড়ে, তাহলেই প্রমাণিত হবে যে তিনি নির্দোষ।

গৃহবধূ প্রথমে এই ভয়ানক প্রস্তাবে রাজি না হলেও, পরিবারের সদস্যরা তাঁকে জোর করে ফুটন্ত তেলের সামনে নিয়ে যান এবং জোরপূর্বক তাঁর হাত তেলের মধ্যে ডুবিয়ে দেন। এতে গৃহবধূর হাত মারাত্মকভাবে ঝলসে যায়।

এই নৃশংস ঘটনার পর গৃহবধূ থানায় অভিযোগ দায়ের করেন। অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে অভিযুক্ত স্বামী মনুভাই ঠাকোর, ননদ যমুনা ঠাকোর এবং পরিবারের আরও দুই সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে। এই ঘটনাটি আধুনিক সমাজ ব্যবস্থায় নারী নির্যাতনের এক ভয়ংকর চিত্র তুলে ধরছে এবং তা সমগ্র এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে।