‘বাংলায় কথা বললেই অত্যাচার’, পুজো উদ্বোধনের মঞ্চ থেকে বিস্ফোরক মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

মহালয়ার আগেই শহরের একাধিক জনপ্রিয় দুর্গাপুজোর উদ্বোধন করে দিলেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। শনিবার হাতিবাগান সর্বজনীন, টালা প্রত্যয় এবং শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ের মতো বড় পুজোর মণ্ডপ উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে তিনি উৎসবের সূচনা করলেন। এই উদ্বোধনের পর থেকেই বিজেপির পক্ষ থেকে এই প্রথার বিরোধিতা করে সমালোচনা করা হয়েছে। তাদের অভিযোগ, মহালয়ার আগে পুজো উদ্বোধন করে মুখ্যমন্ত্রী হিন্দু ধর্মকে অসম্মান করছেন। তবে মুখ্যমন্ত্রী এই সমালোচনার কড়া জবাব দিয়েছেন।

শ্রীভূমি স্পোর্টিংয়ের উদ্বোধনী মঞ্চ থেকে মুখ্যমন্ত্রী (Mamata Banerjee) বলেন, “আমি সব ভাষাকে সম্মান করি। প্রত্যেকে নিজের মাতৃভাষাকে সম্মান করুক। কিন্তু বাংলায় কথা বললে অত্যাচার করা হবে, এটা হতে পারে না।” তিনি অভিযোগ করেন, ভিনরাজ্যে বাংলার শ্রমিকরা প্রায়ই ভাষাভিত্তিক বৈষম্যের শিকার হন। তাঁর দাবি, রাজ্যের প্রায় ২২ লক্ষ শ্রমিক ভিনরাজ্যে কাজ করেন এবং রাজ্যেই কাজ করেন দেড় কোটিরও বেশি মানুষ।

বিজেপির সমালোচনার জবাবে মুখ্যমন্ত্রী স্পষ্ট করে জানিয়েছেন যে তিনি কেবল মণ্ডপ উদ্বোধন করছেন, প্রতিমা নয়। তিনি বলেন, “আমি শুধু প্যান্ডেল উদ্বোধন করছি। মহালয়ার আগে আমি প্রতিমার উদ্বোধন করি না।” এর মাধ্যমে তিনি বোঝাতে চেয়েছেন যে তিনি ধর্মীয় রীতির কোনো অমর্যাদা করছেন না, বরং উৎসবের পরিবেশ তৈরি করছেন।

শনিবারের পর রবিবারও মুখ্যমন্ত্রী কলকাতার একাধিক পুজো মণ্ডপ উদ্বোধন করেছেন। এর মধ্যে রয়েছে নাকতলা উদয়ন সংঘ, ৯৫ পল্লি, যোধপুর পার্ক, বাবুবাগান এবং চেতলা অগ্রণী। আগামী কয়েকদিন ধরেও তিনি শহরের আরও বহু বড় পুজোর উদ্বোধন করবেন। ২৩ সেপ্টেম্বর তিনি মুদিয়ালি, শিবমন্দির, সমাজসেবী, বালিগঞ্জ কালচারাল, ত্রিধারা, ৬৬ পল্লি, বডামতলা, আদি বালিগঞ্জ, একডালিয়া এবং সিংহী পার্কের মতো বিখ্যাত পুজোগুলোর উদ্বোধন করবেন।