লজিস্টিক্স শিল্পকে মর্যাদা, কর্মসংস্থান বাড়াতে রাজ্যের নয়া উদ্যোগ, মন্ত্রিসভায় পাস হলো প্রস্তাব

রাজ্যের পর্যটন খাতের পর এবার লজিস্টিক্স খাতকেও শিল্পের মর্যাদা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে পশ্চিমবঙ্গ সরকার। বৃহস্পতিবার মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের নেতৃত্বে রাজ্য মন্ত্রিসভার বৈঠকে এই প্রস্তাবটি পাশ হয়। সরকারের এই পদক্ষেপকে অর্থনীতিবিদ এবং শিল্প মহল অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছে, কারণ এটি রাজ্যে বিনিয়োগ এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধির একটি নতুন দিগন্ত খুলে দেবে।

লজিস্টিক্স শিল্প হলো পণ্য পরিবহন, মজুতকরণ, প্যাকেজিং এবং সরবরাহের মতো কাজগুলো পরিচালনা করে। অনলাইন কেনাকাটা এবং ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের গুরুত্ব বাড়ার কারণে এই খাতের প্রয়োজনীয়তা বহুগুণে বেড়েছে। সরকারি আধিকারিকদের মতে, অ্যামাজন ও ফ্লিপকার্টের মতো বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানের রাজ্যে কার্যক্রম বৃদ্ধির কারণে লজিস্টিক্স পার্কের প্রয়োজনীয়তা বেড়েছে। এই পার্কগুলো সাধারণত পণ্য পরিবহণ, মজুত এবং সরবরাহকে দ্রুত ও সাশ্রয়ী করতে সাহায্য করে।

বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের সুযোগ
বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, পূর্ব ভারতে একটি বড় লজিস্টিক্স হাব তৈরির জন্য পশ্চিমবঙ্গের ভৌগোলিক অবস্থান অত্যন্ত সুবিধাজনক। এই খাতে শিল্পের মর্যাদা দেওয়ায় কর ছাড়, দ্রুত প্রশাসনিক সহায়তা এবং পরিকাঠামো উন্নয়নের মতো সুবিধাগুলো পাওয়া যাবে। এতে নতুন বিনিয়োগ আসবে এবং হাজার হাজার কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে। এর ফলে রাজ্যের সামগ্রিক অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে, বিশেষত ক্ষুদ্র ও মাঝারি ব্যবসায়ীদের জন্য এটি বিশেষভাবে উপকারী হবে।

পাশাপাশি, বৃহস্পতিবার মন্ত্রিসভার বৈঠকে আরও কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে: নিউটাউন-কলকাতা ডেভেলপমেন্ট অথরিটিতে ১৫টি নতুন শূন্য পদ সৃষ্টি, কৃষি আয়কর দফতরে পরিদর্শক পদে নিয়োগের নিয়ম সংশোধন, এবং শিল্প উন্নয়নের জন্য হীরাপুরের ১৯৩ একর জমি পশ্চিমবঙ্গ ইন্ডাস্ট্রিয়াল ডেভেলপমেন্ট কর্পোরেশন লিমিটেডকে ফ্রিহোল্ড করা। এসব পদক্ষেপ রাজ্যের শিল্পায়ন, প্রশাসনিক কার্যক্রম এবং সাধারণ মানুষের জীবনে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে বলে আশা করা হচ্ছে।