সাঁজোয়া ট্রেনে চেপে চীনে পা রাখলেন কিম, জেনেনিন কেন গুরুত্বপূর্ণ এই সফর?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উপলক্ষে চীনের আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দিতে সাঁজোয়া ট্রেনে চেপে বেইজিংয়ে পৌঁছেছেন উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন। দীর্ঘ ৭ বছর পর তিনি কোনো বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দিচ্ছেন, যা আন্তর্জাতিক মহলে নতুন করে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। এই সফরে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং এবং রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তার বৈঠক করার কথা রয়েছে।
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর কিম জং উন হাতেগোনা কয়েকটি বিদেশ সফর করেছেন, যার অধিকাংশই ছিল চীনে। অতীতে তিনি বহুপাক্ষিক অনুষ্ঠানে যোগ দেওয়া থেকে বিরত থাকতেন, কারণ সেখানে রাজনৈতিক বার্তা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইসিস গ্রুপের (আইসিজি) ক্রিস্টোফার গ্রিন এই সফরকে “অস্বাভাবিক ঝুঁকি” হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, কিম, শি জিনপিং এবং পুতিনের একসঙ্গে উপস্থিতি একটি শক্তিশালী প্রতীকী বার্তা বহন করছে। এটি মার্কিন নেতৃত্বাধীন বৈশ্বিক ব্যবস্থার বিপরীতে একটি নতুন জোটের ইঙ্গিত দিচ্ছে। সিঙ্গাপুরের নানইয়াং টেকনোলজিক্যাল ইউনিভার্সিটির জেমস চার বলেন, কিমের উপস্থিতি চীন ও রাশিয়ার এই জোটকে ‘ঐক্যবদ্ধ ফ্রন্টের’ রূপ দিচ্ছে, যার মূল লক্ষ্য জাপান এবং মার্কিন নেতৃত্বাধীন পশ্চিমা ব্লক।
কিমের এই সফর তার দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতেও এক বড় সাফল্য হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে তিনি উত্তর কোরিয়ার জনগণের কাছে এই বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন যে, আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন থাকা সত্ত্বেও তার দেশ দুটি বিশ্বশক্তির কাছে সম্মানিত।
ঐতিহাসিকভাবে, চীন ও উত্তর কোরিয়ার সম্পর্ক জাপানের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ সংগ্রামের স্মৃতি বহন করে। তবে আইসিজি-এর গ্রিন বলেন, বেইজিং ও পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক আসলে জটিল এবং অস্বস্তিকর। চীন উত্তর কোরিয়াকে একটি ‘বাফার রাষ্ট্র’ এবং সস্তা শ্রমের উৎস হিসেবে দেখে। চীন চায় না উত্তর কোরিয়া এমন কোনো পদক্ষেপ নিক যা আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে নষ্ট করতে পারে।
অন্যদিকে, সিডনি বিশ্ববিদ্যালয়ের জাস্টিন হেস্টিংস মনে করেন, কিমের মূল নীতি হলো চীনের প্রভাবকে ন্যূনতম রেখে অন্যান্য উৎস থেকে সমর্থন ও নিরাপত্তা খোঁজা। গত বছর রাশিয়া ও উত্তর কোরিয়ার মধ্যে পারস্পরিক প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে, যার আওতায় ইউক্রেন যুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার সৈন্যরা লড়াই করছে। কুচকাওয়াজে কিমকে আমন্ত্রণ জানানো প্রমাণ করে যে, শি জিনপিং চান উত্তর কোরিয়াকে বেইজিংয়ের কক্ষপথে রাখতে, বিশেষ করে যখন মস্কোর সঙ্গে পিয়ংইয়ংয়ের সম্পর্ক আরও গভীর হয়েছে।