হড়পা বান-ধস-বন্যা, পাকিস্তানে দু’দিনেই ৩০০-র বেশি মৃত্যু, চলছে উদ্ধার কাজ

পাকিস্তানে প্রবল বৃষ্টি এবং আকস্মিক বন্যায় মৃতের সংখ্যা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। দেশটির খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে এখন পর্যন্ত ৩০০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। গত শুক্রবার মুষলধারে বৃষ্টির ফলে প্রদেশের বিভিন্ন জেলায় আকস্মিক বন্যা দেখা দেয়।
প্রাদেশিক সরকারি মুখপাত্র ফৈজি জানিয়েছেন, খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের বাজাউর, বুনের, সোয়াত, মানসেহরা, শাংলা, তোরঘর এবং বাটাগ্রাম জেলায় বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বুনের জেলা, যেখানে ১৮৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া শাংলায় ৩৬, মানসেহরায় ২৩, সোয়াতে ২২, বাজাউরে ২১ এবং বাটাগ্রামে ১৫ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে।
পাকিস্তানে দুর্যোগ মোকাবিলা কর্তৃপক্ষ (পিডিএমএ)-র মুখপাত্র বলেছেন, অনেক মানুষ এখনও নিখোঁজ থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে। বন্যার জল নেমে গেলে মৃতের এবং আহতের প্রকৃত সংখ্যা জানা যাবে।
বন্যায় বহু বাড়িঘর, স্কুল এবং স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। রাস্তাঘাট বন্ধ হয়ে গেছে, যার মধ্যে কারাকোরাম হাইওয়ে এবং বালতিস্তান হাইওয়ে অন্যতম। উত্তর-পূর্বের নীলম উপত্যকায় বড় ধরনের ধস নেমেছে এবং লাওয়াত নালার ওপর দুটি সেতুও ভেসে গেছে।
এই পরিস্থিতিতে বুনের জেলায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করা হয়েছে। ১,১২২টি উদ্ধারকারী দল ৩ শতাধিক স্কুল-ছাত্রসহ ২,০৭১ জন আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে। ডেপুটি কমিশনার কাশিফ কাইয়ুম জানিয়েছেন, দুর্যোগ কবলিত এলাকায় ত্রাণ কার্যক্রম চলছে এবং পর্যটকদের প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাকিস্তানের আবহাওয়া দফতর ২১ আগস্ট পর্যন্ত খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে আরও বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাস দিয়েছে, যা পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে।