‘ভোটার-বান্ধব’ এসআইআর, সুপ্রিম কোর্টে বিহারের পক্ষে সওয়াল

বিহারে ভোটার তালিকায় নিবিড় পরিমার্জন বা ‘এসআইআর’ (Special Intensive Revision) প্রক্রিয়াকে ‘ভোটার-বান্ধব’ বলে মন্তব্য করল সুপ্রিম কোর্ট। বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চে চলা শুনানিতে শীর্ষ আদালত এই প্রক্রিয়ায় আধার কার্ড বাদ দিয়ে অন্যান্য বিকল্প নথি যোগ করার বিষয়টিকে ইতিবাচক হিসেবে তুলে ধরে।

আজ শুনানির সময় আইনজীবী অভিষেক মনু সিংভি বিহারে এসআইআরের বিরোধিতা করে বলেন, এই প্রক্রিয়ায় অনেক নথি চাওয়া হচ্ছে, যা সাধারণ মানুষের পক্ষে সংগ্রহ করা কঠিন। তিনি আরও বলেন, “যদি জমি না থাকে, তাহলে অপশন ৫, ৬, ৭ বাদ চলে যাবে। রেসিডেন্স সার্টিফিকেট অনেকের নেই, আর পাসপোর্ট তো সীমিত সংখ্যক মানুষের কাছেই থাকে।”

এর জবাবে বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী বলেন, “আধার বাদ দেওয়া নিয়ে আপনার কথা বুঝতে পারছি। তবে বৈধ ভোটার যাচাইয়ের জন্য তথ্য ভোটার-বান্ধব। নাগরিকত্ব প্রমাণের জন্য নথির সংখ্যা দেখুন। এতে ভোটারদের আরও অপশন দেওয়া হচ্ছে, ৭টির বদলে ১১টি নথি রয়েছে।”

বিচারপতি সূর্য কান্ত সিংভিকে থামিয়ে বলেন, “বিহারকে এভাবে তুলে ধরবেন না। দেশজুড়ে পরিষেবার ক্ষেত্রে বিহার থেকেই সবথেকে বেশি প্রতিনিধিত্ব আসে। সর্বাধিক আইএএস, আইপিএস, আইএফএস অফিসাররা বিহার থেকে আসেন। যদি যুব প্রজন্ম অনুপ্রাণিত না হয়, তাহলে এটা হবে না।”

সিংভি তখন বলেন, “বিহারের অধিকাংশ মানুষের কাছে এই নথি নেই। বিহারের কেবল ১ থেকে ২ শতাংশ মানুষের কাছেই পাসপোর্ট রয়েছে।” এর উত্তরে বেঞ্চ বলে, “৩৬ লাখ পাসপোর্ট যথেষ্ট ভালো সংখ্যা।”

পরে সিংভি তার সওয়ালে বলেন যে তিনি ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ দেওয়ার প্রক্রিয়ার বিরোধী নন, বরং এর পদ্ধতিগত ত্রুটির বিরুদ্ধে কথা বলছেন। তিনি বলেন, “ভোটারের নাম বাদ দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম-প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হয়। এটি স্বাভাবিক আইনের পরিপন্থী।” তিনি আরও বলেন, “জাতীয় নির্বাচন কমিশন নাগরিকত্বের প্রমাণ নিয়ে ১৮০ ডিগ্রি ঘুরে গিয়েছে।”

সিংভি পরামর্শ দেন যে ডিসেম্বরের পর থেকে এসআইআর করা হোক এবং এর জন্য এক বছর সময় নেওয়া হোক, যাতে কোনো বিতর্ক না হয়।